২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাশের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। ফলে দুই দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাশের হার রেকর্ড হয়েছে। ২০০৫ সালে এইচএসসিতে পাশের হার ছিল ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই পাশের হার বেড়েছে বা সামান্য কমবেশি হয়েছে। কিন্তু এবার তাতে বড় ভাটা পড়েছে। ২১ বছর পর শিক্ষার্থীদের ফলে এক ধরনের ধস নেমেছে। এবার গত বছরের তুলনায় পাশের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে গড় পাশের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে গড় পাশের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এদিকে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান সারা দেশে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, এবার পাশের হারে সবচেয়ে এগিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাশের হার ৭৫ দশমিক ৬১। অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৬২, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ৮৬, রাজশাহীতে ৫৯ দশমিক ৪০, যশোর ৫০ দশমিক ২০, চট্টগ্রামে ৫২ দশমিক ৫৭, বরিশালে ৬২ দশমিক ৫৭, সিলেটে ৫১ দশমিক ৮৬, দিনাজপুরে ৫৭ দশমিক ৪৯, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৫৪ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। আর এবার ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে। গত জুলাই মাসে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলের মতো এবার এইচএসসির ফল প্রকাশ ঘিরেও কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি।
চুয়াডাঙ্গায় পাশের হার ৫০.৩৫ শতাংশ:
এবারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গায় পাশের হার ৫০.৩৫ শতাংশ। গত বছর পাশের হার ছিল ৫৭.৯৬ শতাংশ। পাশের হারের দিক বিবেচনায় যশোর বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে এবার চুয়াডাঙ্গার অবস্থান চতুর্থ। এর আগের বছর পাশের হার বেশি ছিল, তবে যশোর বোর্ডে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান ছিল অষ্টম। এবার যশোর বোর্ডেই পাশের হার ৫০.২০ শতাংশ। সে হিসেবে পাশের হার কমলেও ফলাফলের দিক দিয়ে কয়েক ধাপ এগিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় এটিও কম।
জেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট উপস্থিত ৬ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৪৯৫ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। জেলার ১২টি কেন্দ্রে এসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ ৩ হাজার ৪৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৬০ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখা ৩ হাজার ১৭১ জন। যশোর বোর্ডের মধ্যে পাশের হারের দিক থেকে এবার প্রথম অবস্থানে আছে যশোর জেলা। যশোর জেলায় পাশের হার ৫৮.২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় খুলনা, পাশের হার ৫৩.৯৮ শতাংশ। তৃতীয় সাতক্ষীরা ৫২.৬৪ শতাংশ। চতুর্থ চুয়াডাঙ্গা, পাশের হার ৫০.৩৫ শতাংশ। পঞ্চম কুষ্টিয়া, পাশের হার ৪৮.৮৫ শতাংশ। ষষ্ঠ মেহেরপুর জেলা, পাশের হার ৪৮.৫১ শতাংশ। সপ্তম নড়াইল, পাশের হার ৪৬.৪৬ শতাংশ। অষ্টম অবস্থানে ঝিনাইদহ জেলা, পাশের হার ৪৫.০৭ শতাংশ। নবম বাগেরহাট জেলা, পাশের হার ৪১.৪৫ শতাংশ। সবথেকে কম পাশের হার মাগুরা জেলায়। এবারে ৩৭.৪৬ শতাংশ পাশের হার নিয়ে যশোর বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে সবার শেষে মাগুরা জেলা।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ কলেজে এবার ৬৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১৪ জন কৃতকার্য এবং ২৫৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাশের হার ৬১.৬১ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন ছাত্রী।’ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পাশের হার ৮৮ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৬৩ জন এ প্লাস, মানবিক থেকে ১১০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৮ জন এ প্লাস পেয়েছে। ফলাফলে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে আমি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা উচ্চ শিক্ষায় উচ্চ জায়গায় আসিন করে নেবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শতভাগ পাশ করলে আমি বেশি খুশি হতাম। আশা করছি আগামীতে জিপিএ-৫ সহ পাশের হার আরও বৃদ্ধি পাবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক