সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত অ্যালকোহল কাণ্ডে আরও এক মৃত্যুর গুঞ্জন

মৃতের পরিবার বলছে স্ট্রোক, তদন্তে পুলিশ
  • আপলোড তারিখঃ ১৫-১০-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত অ্যালকোহল কাণ্ডে আরও এক মৃত্যুর গুঞ্জন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহে বিষাক্ত স্পিরিট (অ্যালকোহল) পানের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যুর গুঞ্জন উঠেছে। মৃতের নাম মুকুল হোসেন (৩০)। তিনি সদর উপজেলার গাইদঘাট রেলপাড়ার বাসিন্দা। গত রোববার রাত ১১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের দাবি, মুকুলও অ্যালকোহল পানে মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।


জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দুজন উপস্থিত হয়ে জানান, ডিঙ্গেদহ বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করে মারা গেছেন। পরে পুলিশ সদর হাসপাতাল থেকে একটি মৃত্যুর রিপোর্ট পায়, যেখানে ‘অ্যালকোহল পয়জনিং’ উল্লেখ ছিল। এরপর শুরু হয় তদন্ত। একে একে বেড়িয়ে আসে ভয়াবহ এক চিত্র, বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে প্রাণ গেছে ছয়জনের।


গত শনিবার দুজন ও রোববার দুপুরের মধ্যে মারা যাওয়া চারজনের দাফন সম্পন্ন করেন তাদের পরিবার। এছাড়া রোববার সন্ধ্যার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল্টু মিয়া ও বাড়িতে নেওয়ার পর সমির শেখ মারা যান। সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বিকেলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।


এদিকে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে মৃত্যুর সন্দেহে হায়াত আলী (৫৫) নামের আরেক কৃষি শ্রমিকের মরদেহেরও ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, তিনিও বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।


অন্যদিকে, গাইদঘাট রেলপাড়ার মুকুল হোসেনের মৃত্যুতেও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং স্ট্রোকে মারা যান। পুলিশ বলছে, বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আরও দুজন। তাদের মধ্যে আলিম উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বিশেষ টিম অ্যালকোহল পানের পরেও চিকিৎসা নেননি এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ডিঙ্গেদহে ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে নতুন করে আরও দুজনের নাম সামনে আসে, খেজুরা গ্রামের রনি (২৫) ও হায়াত আলী। রনি চিকিৎসকের পরামর্শে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া খেজুরা শেখপাড়ার জুমাত আলী (৪৬) নামের এক ব্যক্তি অ্যালকোহল পানে অসুস্থ হয়ে পুলিশি হেফাজতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘সোমবার দুপুরে খবর পাই, কাথুলী গ্রামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন ছিল তিনিও বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেছিলেন। খবর পেয়ে আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করি এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, তার মৃত্যুও অ্যালকোহল পানের কারণে হতে পারে।’


তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তথ্যে সাতজনের মৃত্যু ও দুজনের চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আরও দুজন কিছুটা সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করছেন।’ গাইদঘাটের মৃত মুকুল হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওই ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য আমরা পাইনি। পরিবার মৃত্যুর পর দাফন সম্পন্ন করেছে। তারপরও ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত