চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত অ্যালকোহল সেবনে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত দলটি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং অ্যালকোহল পানে অসুস্থ ব্যক্তিদের খোঁজ নেন। স্বাস্থ্য বিভাগের এই জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের ভিত্তিতে নতুন দুজন শনাক্ত হয়েছে, তারাও অ্যালকোহল পান করেছিলেন।
প্রতিনিধি দলে প্রধান ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান। এসময় তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেন, কেউ যদি মদপান করে অসুস্থ হয়ে থাকে, তবে জীবনঝুঁকি এড়াতে গোপন না রেখে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অসুস্থদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মেডিকেল ক্যাম্পে খেজুরা গ্রামের রনি (২৫) নামের এক যুবক চিকিৎসা পরামর্শ নেন। তিনি অ্যালকোহল পান করেছিলেন, তা স্বীকার করেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। চিকিৎসকরা তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বেলা ২টায় তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল হাসান নয়ন বলেন, ‘রনি এবং আলিম নামের আরও দুজন একইসময় অ্যালকোহল পান করেছিলেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা খুব বেশি জটিল না হওয়ায় এবং লোকলজ্জার ভয়ে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মেডিকেল ক্যাম্প সম্পর্কে জানার পর আমি ডা. আওলিয়ার রহমান এবং ওই দুজনের সঙ্গে কথা বলেছি। রনি হাসপাতালে ভর্তি হলেও আলিম ভর্তি হননি বলে জেনেছি।’
প্রতিনিধি দলের প্রধান ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অ্যালকোহল সেবনে অসুস্থদের চিহ্নিত করা এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনা। কিন্তু এলাকায় গিয়ে আমরা দেখেছি, অনেকে অসুস্থ হয়েও স্বীকার করতে চান না যে তারা মদপান করেছেন। তবে দুজন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন, তারা অ্যালকোহল পানের কথা স্বীকার করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামবাসীর প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, কেউ যেন গোপনে অপচিকিৎসার শিকার না হন। জীবন বাঁচাতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসুন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অসুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা এখনও অসুস্থ হয়ে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অবিলম্বে সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক