সীমান্ত নিরাপত্তায় আবারও প্রমাণ দিলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন ৬ বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান এক সপ্তাহেই দেখিয়েছে দৃশ্যমান সাফল্য। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে ৭ দিনে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ৭৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনী। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক হায়দার আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গত শনিবার ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন স্পটে একাধিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও নিয়মিত টহল অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে দুইজন চোরাকারবারিকেও আটক করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিজিবির চৌকস দল দর্শনা আইসিপি, সুলতানপুর, বারাদী, বড় বলদিয়া, ফুলবাড়ী, ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর, জগন্নাথপুর, আনন্দবাস, নাজিরাকোনা, বাজিতপুর, ইছাখালি ও শৈলমারী বিওপি সীমান্তে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে জব্দ করা চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের মধ্যে স্বর্ণের বার ৩টি (৩৫০.১২ গ্রাম), ভারতীয় মদ ১৮২ বোতল, হেরোইন ৩৯ গ্রাম, গাঁজা ১.০৪ কেজি, ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ২২৮ পিস, বিয়ার ২ বোতল, ফেনসিডিল ১৩৫ বোতল, ইয়াবা ২০০ পিস, পাতার বিড়ি ২০৮ প্যাকেট, ভারতীয় শাড়ি ১২ পিস, কসমেটিক্স ১ হাজার ৩৪১ পিস, ভারতীয় মোবাইল ফোন ১টি, বিভিন্ন প্রকার ক্রীম ৩৪৬ পিস, পেঁয়াজের বীজ ১৪ কেজি ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৯৮ কেজি।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী এই কার্যক্রম কেবল বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রমাণ নয়, বরং এটি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক ও চোরাচালান চক্রকে ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশপথে প্রতিনিয়ত নিয়মিত করতেই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং সীমান্ত এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও নজরদারি বজায় রাখবে বিজিবি।
সমীকরণ প্রতিবেদন