রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নিষেধাজ্ঞার আগের দিনে চুয়াডাঙ্গায় ইলিশ মাছের জমজমাট মেলা

দাম চড়া, ভিড়ে ঠাসা বাজারে ক্রেতাদের হতাশা
  • আপলোড তারিখঃ ০৩-১০-২০২৫ ইং
নিষেধাজ্ঞার আগের দিনে চুয়াডাঙ্গায় ইলিশ মাছের জমজমাট মেলা

নাজমুল সামী:
প্রতি বছরের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্ট মোড় দোয়েল চত্বরে বসেছিল ইলিশের মেলা। মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের দিন গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এ বেচাকেনা। সকাল থেকেই মাছ ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেন ইলিশের পসরা। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে জমে ওঠে বাজার। শহরজুড়ে করা হয় নানা অফারের মাইকিং।


মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রজনন মৌসুম এগিয়ে এনে এবার ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এ কারণে আড়তদারদের মজুত করা মাছসহ নদী ও সাগরে শিকার করা ইলিশ বাজারে ছাড়তে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।


এ মেলায় ইলিশ পাওয়া গেছে ৫৫০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি মাছের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত। ৪৫০ কাটা কেজিতেও বিক্রি করা হয়েছে জাটকা। এসব ইলিশ মূলত পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে এসেছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলে আসা এ মেলা নিষেধাজ্ঞার আগের দিন শেষ হয়। 


ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি হলেও শেষদিনে ভিড় করেছেন বাজারে। ক্রেতা শুভ বলেন, ‘অনেকদিন ধরে ভাবছি ইলিশ কিনবো, কিন্তু হচ্ছিল না। আজ যেহেতু মেলার শেষ দিন তাই চলে এলাম। তবে দাম অনুযায়ী মাছ খুব একটা ভালো লাগছে না, তুলনামূলক দাম অনেক বেশি।’


আরেক ক্রেতা শাফিন ইসলাম বলেন, ‘গত মাসে এখান থেকে মাছ কিনেছিলাম। বড় ইলিশের স্বাদ মোটামুটি ভালো ছিল, তবে ছোট ইলিশে একেবারেই স্বাদ নেই। গতবার ঠকেছি, তাই এবার বড় ইলিশ কিনবো। দাম বেশি হলেও পরিবারের জন্য কয়েক কেজি নিচ্ছি।’


বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, বিক্রি মোটামুটি হলেও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে মনে হয়েছে। বিক্রেতা লিটন বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ বিক্রি বেশি হয়েছে। লোকজনও অনেক এসেছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতা মাছ না কিনেই ফিরেছেন।  তবে দামের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় আমদানি কম, দামও বেশি। ফলে বিক্রি মন্দা গেছে।’ 


বিক্রেতা মিনহাজ মন্ডল বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে ভেবেছিলাম বিক্রি বেশি হবে কিন্তু তা হয়নি। আজ শেষদিনেও আশানুরূপ বিক্রি করতে পারিনি। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা মাছ দেখে দাম শুনে চলে গেছেন।’ দুই মাসব্যাপী চলা এ ইলিশ মেলার শেষ দিনটি তাই জমজমাট ভিড়ে হলেও ক্রেতাদের কাছে ছিল হতাশার, আর বিক্রেতাদের কাছে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি দামের কারণে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত