শারদীয় দুর্গাপূজার রঙিন আলোকসজ্জায় আলোকিত চুয়াডাঙ্গার মণ্ডপগুলোতে গতকাল সোমবার রাতে যোগ হলো এক ভিন্ন আবহ। ভক্ত-শুভার্থীরা যখন পূজার আরতি আর ঢাকের শব্দে মগ্ন, ঠিক তখনই সদর উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে উপস্থিত হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তার আগমন যেন ভক্তদের মনে এনে দেয় নিরাপত্তা, স্বস্তি আর এক অন্যরকম আনন্দ।
বেলগাছি মণ্ডপ থেকে শুরু করে শংকরচন্দ্র, কুতুবপুর, আলুকদিয়া, পদ্মবিলা ও মোমিনপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে শরীফুজ্জামান শরীফ একে একে ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, খোঁজ নেন আয়োজকদের, আর প্রতিশ্রুতি দেন শান্তিপূর্ণ পূজার পরিবেশ নিশ্চিত করার। সদর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর ভক্ত-আয়োজকরা শরীফুজ্জামান শরীফকে পেয়ে আবেগাপ্লুত। কারও হাতে ধূপকাঠি, কারও হাতে প্রসাদ- তারা সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দেন সম্প্রীতির উষ্ণতা।
বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় আমরা সকলে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। এই উৎসব যেন নির্বিঘ্নে উদ্যাপিত হয়, সে জন্য আমরা আগেই পূজা কমিটি ও মণ্ডপ প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। আমাদের দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে, যাতে ভক্তরা ভীত না হয়ে নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা জননেতা তারেক রহমানের অনুপ্রেরণায় আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে এবং আমরা সেই উপহার পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা অবলম্বন করেছি। প্রতিটি মন্দির ও পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতা-কর্মীদের পূর্বেই বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলাম, ভালো লাগছে সকলে আমার কথা রেখেছেন এবং আরও সুন্দরভাবে তারা পূজা উদ্যাপন করতে পারছেন।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, পূজার দিনগুলোতে আমি নিজে প্রতিটি মন্দির পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব। সেই প্রতিশ্রুতি এবং নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি করে আমি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শনে বের হয়েছি। আমার লোকজনের মাধ্যমে আমি সবসময় প্রতিটি মণ্ডপে নজর রেখে চলেছি। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হলে তা প্রশাসনের সাহায্যে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবসময় দেশের মানুষের সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পূজা-পার্বণের সময়ে বিভাজন সৃষ্টি করতে কেউ যাতে পারে না, সেদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা ধর্ম-বর্ণ ভুলে সকল সম্প্রদায়ের পাশে থেকে তাদের সহায়তা করে যেতে চাই।’
শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘বিগত বছরের ন্যায় এই পূজা উদ্যাপন এবং যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভক্তদের সুন্দর আয়োজন উপহার দিচ্ছেন, তাদের জন্য এবছরও বিভিন্ন পুরস্কার থাকবে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সেরা আয়োজন এবং সেরা মণ্ডপ হিসেবে যারা সম্মানিত হবে, তাদের সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হবে।’
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সফরসঙ্গী ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ, জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব সুমন পারভেজ খান, জেলা পূজা উদ্যাপন ফোরামের আহ্বায়ক উত্তপল বিশ্বাস ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, পৌর ছাত্রদলের সদস্য শাহারু আহমেদ প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক