চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া বারোয়ারি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তবে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তে প্রমাণ মিলেছে ঘটনাটি পুরোপুরি গুজব, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ‘৬৪ জেলা সনাতনী পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে টঃঃধস উরা নামের এক ব্যক্তি এই মিথ্যা তথ্য ছড়ান। উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা।
পোস্টটি নজরে আসার পরপরই গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের পরিবেশ একেবারেই স্বাভাবিক পাওয়া যায়।
সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ‘ফেসবুকে খবর দেখে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। কোনো প্রতিমা ভাঙচুর হয়নি। এটি সম্পূর্ণ গুজব ও অপপ্রচার। যেসব আইডি থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় সেগুলো শনাক্ত করছি। শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ সুপার ও ওসিকে নিয়ে মন্দিরে যাই। কিন্তু সেখানকার পূজামণ্ডপ একেবারেই স্বাভাবিক। আমরা পূজা উদ্যাপন কমিটিকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছি এবং আশ্বস্ত করেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো আছে।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায় জানান, ‘প্রথমে মন্দির কমিটির সভাপতি আমাকে বিষয়টি জানালে আমি দ্রুত ইউএনও ও ওসিকে অবহিত করি। আমিসহ তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখা যায়, এটি সম্পূর্ণ গুজব। তবে ২০২১ সালে একবার এই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছিল। তখনকার কিছু পুরনো ছবি ব্যবহার করেই এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণার উদ্দেশ্য স্পষ্ট- সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং ভীতির পরিবেশ তৈরি করা। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
এদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং চলছে। তারা সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো প্রকার গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্টে কান না দেওয়া হয়।
প্রধান সম্পাদক