রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভয়াল ২১ সেপ্টেম্বর আজ, ২০০০ সালের সেই বন্যা

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দর্শনার দুই লাখ মানুষ
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৯-২০২৫ ইং
ভয়াল ২১ সেপ্টেম্বর আজ, ২০০০ সালের সেই বন্যা

আজ ২১ সেপ্টেম্বর। দর্শনার মানুষের জন্য এটি শুধুই একটি তারিখ নয়, এক ভয়াল দিনের করুণ স্মৃতি। ২০০০ সালের এই দিনে বিকেল ৫টার দিকে ভারতীয় সীমান্ত থেকে হঠাৎ উজানে নেমে আসা ঢলে দর্শনার জনজীবনে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনে। শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে শ্যাম্পুর পাইপ ঘাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে হু হু করে ঢুকে পড়ে বন্যার পানি। মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যায় পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নসহ পুরো দর্শনা শহর।


ভয়াবহ সেই বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েন দুই লক্ষাধিক মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছুটে যান উঁচু স্থানে। যেটুকু পাওয়া যায়-হাতে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। কারও ঘরে রাখা ধান, চাল, গম, ছোলা-সব ভেসে যায় পানির তোড়ে। গরু-ছাগল ভেসে যায়, রান্নার বাসন, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবকিছু তলিয়ে যায়। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ ১৫ থেকে ১৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। যেন পুরো এলাকা এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।


পানির তোড়ে ঘরবাড়ি ভেসে গেলে শেষ ভরসা ছিল দর্শনা রেল স্টেশন এবং তার সংলগ্ন রেললাইন। শ্যাম্পুর, আজিমপুর, ঈশ্বরচন্দ্রপুর, পরানপুর গ্রামের মানুষজন ঠাঁই নেয় সেখানে। হাত-পা গুটিয়ে রেললাইনের ওপর বসে থাকে হাজার হাজার মানুষ। সেই দুর্যোগে কেউ খাবার আনতে পারেননি। রান্না করার উপায়ও ছিল না। মানবিকতায় এগিয়ে এসেছিল সবাই-চলেছিল ১৫ দিনের রান্না করা খাবার বিতরণ। 


তৎকালীন মেয়র মতিয়ার রহমান, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জাকারিয়া আলম, হাউলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ মিন্টু, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এনজিও সংস্থাগুলো দ্রুত বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়।


স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় স্পিডবোট। গাছের ডালে আশ্রয় নেওয়া নারী-শিশুদের উদ্ধার করা হয়। পাকা বাড়ির ছাদ থেকেও নামানো হয় মানুষ। উদ্ধার করে আনা হয় দর্শনা রেলস্টেশনে। সেখানে শুরু হয় রান্না করা খাবার বিতরণের কার্যক্রম, যা টানা ১৫ দিন ধরে চলে। এই ভয়াল পরিস্থিতিতে সবাই একে অপরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। কেউ রান্না করা খাবার নিয়ে ছুটে আসে, কেউ কাপড়, কেউ ওষুধ, আবার কেউ শিশুদের জন্য দুধ নিয়ে দাঁড়ায়। দর্শনাবাসীর সেই সম্মিলিত সহানুভূতি আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।


দর্শনাবাসীর কাছে এই দিন শুধু একটা স্মৃতি নয়, এটি এক মানবিক বিপর্যয়ের দিন, যেখানে মানুষ হারিয়েছে অনেক কিছু, আবার মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর বিরল নজিরও স্থাপন হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর, সাল ২০০০।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত