রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ নবীন বরন ও ওরিয়েন্টেশনে শরীফুজ্জামান শরীফ

পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও আবিষ্কারে দক্ষ হতে হবে
  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৯-২০২৫ ইং
সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ নবীন বরন  ও ওরিয়েন্টেশনে শরীফুজ্জামান শরীফ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ তেঁতুল শেখ কলেজ একাদশ শ্রেণির নবীন বরন  ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কলেজের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তেঁতুল শেখ কলেজের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজ আমি সত্যিই খুব আনন্দিত যে প্রথমবারের মতো তেঁতুল শেখ কলেজে এসেছি। এখানে এসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রেজেন্টেশন দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। ২০১১ সালে “পড় তোমরা প্রভুর নামে” স্লোগান নিয়ে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই পথচলা আজ ২০২৫ সালে এসে জেলার শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছেছে। কখনো দ্বিতীয়, কখনো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। এই অর্জনের পেছনে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকব এবং যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমি এখানে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এসেছি, ভোট চাইতে বা প্রার্থী হওয়ার কথা বলতে আসিনি।’



শরীফুজ্জামান বলেন, ‘প্রিয় নবীন শিক্ষার্থীরা, আমি তোমাদের চোখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে দেখতে চাই। তোমাদের মধ্যে থেকেই কেউ ডিসি হবে, কেউ এসপি হবে, আবার কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তোমাদের ভূমিকা এ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন প্রযুক্তির যুগে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়ে বাস করছি। শুধু পড়াশোনাই নয়, আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনের সঙ্গেও তাল মেলাতে হবে। আগে যেখানে একটি পুকুর খনন করতে ১০০ জন শ্রমিক ও অনেক সময় লাগত, এখন প্রযুক্তির কারণে একদিনেই তা সম্ভব। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও আবিষ্কারে দক্ষ হতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, তেঁতুল শেখ কলেজ অনেক ক্ষেত্রেই অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে আছে। শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের আন্তরিকতার কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শুধু কলেজ নয়, পুরো চুয়াডাঙ্গার সুনাম আরও বাড়বে। তবে শিক্ষার্থীদের দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে- মোবাইল ফোন এবং মাদক। মোবাইলকে পরিহার নয়, বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। অযথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গেমসে আসক্ত না হয়ে পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জনে মোবাইলকে কাজে লাগাতে হবে।



শরীফুজ্জামান বলেন, ‘মাদককে একেবারেই না বলতে হবে। ভবিষ্যতে আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হোক। যেন কোনো মাদকাসক্ত শিক্ষার্থী কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোথাও ভর্তি হতে না পারে। আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসতে পারলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করব।’


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তেঁতুল শেখ কলেজের অধ্যক্ষ মারুফুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কলেজের প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া ও তথ্য যোগাযোগ বিষয়ক প্রভাষক আল মেহেদী।
কলেজের কৃষিশিক্ষা বিভাগের প্রভাষক নুর-ই-ফারজানা ইলার সঞ্চালন আরও উপস্থিত ছিলেন শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রুবেল, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিক আহমেদ, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহাবুব হকসহ তেঁতুল শেখ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে তেঁতুল শেখ কলেজের পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত