সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
চুয়াডাঙ্গায় দুই শিক্ষার্থীকে পেটানোর ঘটনায় মামলা

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ইব্রাহিম গ্রেপ্তার

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৯-২০২৫ ইং
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ইব্রাহিম গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুরে জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া কওমিয়া মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আহত শিক্ষার্থী মিরাজের বাবা মিলন আলী বাদী হয়ে শিশু আইনে মামলা দায়ের করলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আহত দুই শিক্ষার্থী হলো- মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের মিলনের ছেলে মিরাজ (১২) ও বজলুর রহমানের ছেলে রাব্বি (১৩)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে। জানা যায়, মাদ্রাসার মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় ভুলবশত শিক্ষক ইব্রাহিমের ভাগ্নে হুজাইফার গায়ে মিরাজের পা স্পর্শ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইব্রাহিম। তখনই তিনি মিরাজ ও রাব্বিকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। পরে পাশের কক্ষে নিয়ে মেহগনি গাছের চেলা দিয়ে আবারও বেধড়ক মারধর করেন। আহত মিরাজ বলেন, ‘ভুলবশত পা লেগেছিল। তখন হুজুর আমাদের পেটাতে শুরু করেন। পরে পাশের কক্ষে নিয়ে আরও মারধর করেন।’ রাব্বি জানায়, ‘কারণ জানতে চাইলে আরও বেশি মারধর করেন। এমনকি হুমকি দেন, ঘটনা জানালে জবাই করে ফেলবেন বা ছাদ থেকে ফেলে দেবেন।’


মিরাজের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলে খুঁড়িয়ে বাড়ি এলে জামা খুলে দেখি শরীরজুড়ে আঘাতের দাগ। অন্যায় করলে অভিভাবককে জানানো যেত, কিন্তু এভাবে শিশুকে পেটানো মানবিক নয়। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ একই দাবি করেছেন রাব্বির বাবা বজলুর রহমানও। তিনি জানান, ‘এর আগেও এই শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছিলেন। বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহেবুবা মুস্তারী মৌ বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীই গুরুতর আহত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় শিক্ষক ইব্রাহিম বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য না করলেও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমে শিক্ষক ইব্রাহিমকে নিজেদের হেফাজতে রাখে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে শুক্রবার মামলা হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড