চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুরে ব্যক্তিগত রাগ মেটাতে মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন শিক্ষক মো. ইব্রাহিম (৩৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দীননাথপুর জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারের চোটে এক শিক্ষার্থী পালিয়ে রক্ষা পেলেও অপর শিক্ষার্থীর ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। খবর পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বর আহত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে, ঘটনার তথ্য জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা শিক্ষককে মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রাখে।
আহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা রাতেই সদর থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। জখম দুই শিক্ষার্থী হলেন- মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির আবাসিক ছাত্র ও কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের মিলনের ছেলে মিরাজ হোসেন (১২) এবং আলমডাঙ্গার আসমানখালী গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে রাব্বি হোসেন (১৩)।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে মাদ্রাসার সব ছাত্ররা মসজিদে শুয়ে ছিল। তখন ঘুমন্ত অবস্থায় হুজুরের ভাগ্নে হুজাইফার গায়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর পা লাগলে শিক্ষক মো. ইব্রাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ঘুম থেকে তুলে নিজ কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে মেহগনি গাছের চলা দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
পালানোর চেষ্টা করার পরও তাদেরকে মাদ্রাসার একটি রুমের ভেতর আটকে রাখা হয়। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে রাব্বি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মিরাজের পিতা ও গ্রামের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দুই পরিবারই আহতদের চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাব্বি হোসেনের পিতা বজলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা চাই, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ দুই পরিবারের সদস্যরাও শিক্ষককে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেবুবা মুস্তারি জানান, ‘দুই শিক্ষার্থীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুজনকেই জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবর্তী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আহত দুই শিক্ষার্থী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রধান সম্পাদক