চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার এক আবাসিক ছাত্র পুকুরে ডুবে মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মাদ্রাসা ছাত্র ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে হাম্মাদ হুসাইন সামাউল (১৯)। সে ওই মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল চারটা পর্যন্ত হাম্মাদ হুসাইন সামাউল শ্রেণিকক্ষে ছিল। সাড়ে চারটার দিকে গোসলের জন্য সে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে থাকা পুকুরে নামে। এসময় একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও হাম্মাদ হুসাইন সামাউলের বন্ধু হুজাইফা পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হাম্মাদ হুসাইন সামাউল পুকুরে নেমে তার বন্ধুকে বলে আমি ডুব দিয়ে কতক্ষণ থাকতে পারি, তা পরীক্ষা কর। এসময় হাম্মাদ হুসাইন সামাউল পুকুরে ডুব দেয়। প্রায় পাঁচ মিনিট পার হয়ে গেলেও সে উপরে না উঠলে হুজাইফা তার সহপাঠীদের জানায়। একপর্যায়ে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষার্থীরা পুকুরে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করে। হাম্মাদ হুসাইন সামাউলের পুকুরে ডুব দেয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
এসময় তাকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসক ও পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘ঘটনা জানার পর ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও প্রায় ১৫ মিনিট পর তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক তাকে ডিঙ্গেদহ বাজারের স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। কিন্তু তাকে হাসপাতালে নিতে বলে। এসময় তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান সে মারা গেছে। ঘটনার পরপরই তার পরিবারের সদস্যদেরকে জানানো হয়। তারা হাসপাতালে এসেছেন।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বোনের বিবাহের জন্য এক মাসের ছুটি নিয়ে হাম্মাদ হুসাইন সামাউল বাড়িতে ছিল। গত রোববার সে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় ফিরে আসে। সে সাঁতার জানতো। বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষক মোবাইলে জানায় সামাউল পুকুরে ডুবে গেছে, তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আবুবকর সিদ্দীক বলেন, ‘এক মাস বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে রোববার সে মাদ্রাসায় ফিরে আসে। বিকেলে সে শ্রেণিকক্ষে ছিল, আছরের নামাজের পূর্বে সে গোসল করার জন্য পুকুরে যায়। কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসার অপর ছাত্র ও হাম্মাদের বন্ধু হুজাইফা জানায় সে পুকুরে ডুব দিয়ে আর উঠছে না। তখন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করলে নিথর অবস্থায় হাম্মাদকে পাই। এসময় তাকে স্থানীয় চিকিৎসক ও পরে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সে পুকুরে একাই নেমেছিলো তার বন্ধু হুজাইফাসহ দুজন সেসময় পুকুরের পাড়েই তার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেবুবা মুস্তারি বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ্রাসা ছাত্র হাম্মাদ হুসাইন সামাউলকে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা জরুরি বিভাগে আনেন। এসময় পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘অপমৃত্যুর ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক