আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য লিপি খাতুনের বিরুদ্ধে রেহেনা নামের একজনের ভিডব্লিউবি কার্ডের চাল তুলে অন্য রেহেনাকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে বাগবিতান্ডায় জড়িয়ে পড়ে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দরবেশ।
জানা যায়, ভলনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রোগ্রামের আওতায় সারা দেশের অসচ্ছল নারীদের প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল বিনা মূল্যে দেয় সরকার। জামজামি ইউনিয়নে ৮৮ জনের নামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিডব্লিউবি কার্ডের অনুমোদন হয়েছে। ভিডব্লিউবি কার্ডের আবেদন অনলাইনে করা হয়। জামজামি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৬০ জনের আবেদন অনলাইনে করা হয়েছিল। সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য লিপি খাতুন আবেদন করার সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গঞ্জের আলীর মেয়ে রেহেনা খাতুনের নাম সুপারিশ করেন। সকল ওয়ার্ডে প্রায় ১৬০ আবেদনকৃতদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ভিডব্লিউবি কার্ড চূড়ান্ত করার সময় ইউপি সদস্য লিপি খাতুন নাম সুপারিশ করেন।
আবেদনকারী প্রায় ১৬০ জনের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাপ আলীর স্ত্রী রেহেনা খাতুনের নামসহ ৮৮ জনের ভিডব্লিউবি কার্ডের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। এই চূড়ান্ত তালিকার পরিপ্রেক্ষিতে ৮৮ জনের নাম ভিডব্লিউবি কার্ডের চাল বরাদ্দ আসে। গত ১ সেপ্টেম্বর জামজামি ইউনিয়নে জুলাই ২০২৫ মাসের চাল বিতরণ করা হয়। ওই দিন সংরক্ষিত (১, ২, ৩) ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য লিপি খাতুন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুনকে সাথে করে নিয়ে এসে চাল তুলতে আসেন। এসময় স্থানীয় লোকজন নারী ইউপি সদস্যকে চাল তুলতে বাধা প্রদান করেন। তিনি জোরপূর্বক চাল তুলে রেহেনা খাতুনকে দিয়ে দেন।
কার্ডধারী রেহেনা খাতুনের ছেলে তার মায়ের নামের চাল নিতে আসলে তিনি জানান ভুল করে তোমার মায়ের নাম হয়ে গিয়েছে। তোমার মা চাল এ চাল পাবে না। পরবর্তীতে কোনো কার্ড আসলে তোমার মায়ের নামে কার্ড করে দিন। একথা বলা স্থানীয়দের সাথে ইউপি সদস্য লিপি খাতুনের বাগবিতান্ড সৃষ্টি হয়। এসময় ইউপি সদস্য লিপি খাতুনের স্বামীকে ডেকে নিয়ে আসেন তিনি। পরে ইউপি সদস্য লিপি খাতুনের স্বামী দরবেশ আলীর সাথে স্থানীয় কয়েকজনের হাতাহাতি পর্যন্ত হয়।
ইউপি সদস্য লিপি খাতুন বলেন, তিনি ভুল করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুনের জায়গায় ২ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুনের নাম সুপারিশ করেছি। যার কারণে তিনি জুলাই মাসের চাল উত্তোলন করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুনকে দিয়েছেন। তিনি জানান, পরবর্তীতে অন্যকোনো কার্ড আসলে ২ নং ওয়ার্ডের রেহেনাকে করে দিব।
স্থানীয়রা জানায়, লিপি খাতুনের সাথে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সখ্যতা ভালো থাকায় লিপি খাতুন তার ইচ্ছামতো যখন যা খুশি তাই করেন। ইতিপূর্বে চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে ইউপি সচিব লিমন হোসেন জানান, ইউপি সদস্য লিপি খাতুন প্রথমে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুনের নাম সুপারিশ করেছিল। চুড়ান্ত সুপারিশ করার দিন তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনার নাম সুপারিশ করায় তার নামে ভিডব্লিউবি কার্ড অনুমোদন হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের রেহেনা খাতুন ছাড়া অন্যকেউ এ চাল উত্তোলন করার সুযোগ নেই।
ভ্রাম্যমান প্রতিবেদক,আলমডাঙ্গা