রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আয়া নিয়োগে ১৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ভাগ-বাটোয়াড়া!
  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৮-২০২৫ ইং
জীবননগরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জীবননগর উপজেলার পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন। এ বিষয়ে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার সানোয়ার হোসেন বলেন, পাঁকা গ্রামে একটি মাত্র মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসাটা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ৩ বছর আগে মাদ্রাসায় একজন আয়া নিয়োগ দেওয়া হয়। মাদ্রাসার সামনে বড় পুকুরটি ভরাট করার জন্য তার নিকট থেকে ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়, যা গ্রামের সকল মানুষ জানে। কিন্তু গত ৩ বছর পার হলেও এখানে এক গাড়ি মাটি দেয়নি। সুপারকে বললে আজ না কাল বলে কাটিয়ে দিচ্ছে। পরে শুনলাম ওই টাকাগুলো সুপার সাহেব আর আগের কমিটির লোকজন মিলে ভাগ করে নিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত  চাই।’


পাঁকা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘মাদ্রাসায় আয়া নিয়োগ দিয়ে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে মাটি ভরাট করা হবে, এটা গ্রামের সবাই জানে। কিন্তু সুপার সাহেব মাটি ভরাট না করে সেই টাকা কী করেছে, এটা আমরা গ্রামের সাধারণ মানুষ জানতে চাই।’ সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সামনে চলতি বছরে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ১৮০ গাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে। তবে কত টাকা বরাদ্দ, তা জানে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ।


তবে মাদ্রাসায় মাটি দেওয়া ট্রাক্টর ড্রাইভার বলেন, ‘আমি এই মাদ্রাসায় মাটি দিয়েছি ১৮৮ গাড়ি। মাটি, ভেকু সব আমার। চেয়ারম্যান আমার ৫০০ টাকা করে দাম দিয়েছে ১০০ গাড়ির। আর ৬০০ টাকা করে দিয়েছে ৮৮ গাড়ির দাম। কত টাকা বরাদ্দ, এ বিষয় আমি কিছুই বলতে পারবো না।’


তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরে মাটি ভরাটের জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২ লাখ টাকা খরচ করে বাকি টাকা গায়েব করা হয়েছে। এছাড়া এক শিক্ষিকা নিয়োগে ৫ লাখ টাকা নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এই সুপারের বিরুদ্ধে।


আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আতিয়ার রহমান বলেন, পাঁকা মাদ্রাসার সুপার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে কিছু নেতা-কর্মীদের সাথে হাত মিলিয়ে মোটা অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। মাদ্রাসার পুকুর ভরাট করার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।


পাঁকা দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওহেদুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো নিয়োগ দিয়ে টাকা নিইনি। আমার বিরুদ্ধে এটা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আর মাদ্রাসায় যে ১৮৮ গাড়ি মাটি দেওয়া হয়েছে, এটা আমি জানি। তবে কত টাকা বরাদ্দ এটা আমি জানি না।’


এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার আব্দুল জব্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত