রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি, একদিনেই শেষ হলো দুই প্রজন্ম

বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, দুজন আটক
  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৮-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি, একদিনেই শেষ হলো দুই প্রজন্ম

চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে চাচাতো ভাইদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা-ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের ভালাইপুর মোড়ের কাছে পোলের মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আল মিরাজ (১৭) এবং তার পিতা তৈয়ব আলী (৪০)।  ঘটনাস্থলেই কিশোর আল মিরাজ প্রাণ হারান। গুরুতর আহত বাবাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। একদিনেই পরিবার থেকে দুই প্রাণ ঝরে পড়ায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।


নিহত মিরাজের আপন চাচা রাজু হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দেড় কাঠা জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আমার চাচাতো ভাই বাবু (৪৩) ও বোনের ছেলে রাজুর (৩২) বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার আমার ভাই তৈয়ব ও ভাস্তে মিরাজ মাঠে পাট শুকাচ্ছিলো। তখন বাবু ও রাজু ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মিরাজ মারা যায় এবং আমার ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হলে কুষ্টিয়া নেয়ার পথে আমার ভাইও মারা যায়।’


আলুকদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল বেলাল বলেন, ‘শরিকের জমি নিয়ে কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আজ এই ঘটনা ঘটেছে।’




ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ অভিযুক্ত হাসান আলী বাবু (৪৩) ও রাজীব হাসান রাজুকে (৩২) ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, ‘জমি-জমা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবু ও রাজুকে আটক করেছি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, নিহত বাবা ও ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তৈয়ব আলীর স্ত্রী সাবিনা খাতুন একটি লিখিত অভিযোগ দিতে থানায় এসেছেন। মামলা রেকর্ড হলে আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।


এদিকে, গতকাল রাত ৯টার দিকে আলুকদিয়া পুরাতন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক পরিবেশের মধ্যে জানাজা শেষে বাবা-ছেলেকে পাশাপাশি স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত তৈয়ব আলীর দুই সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে আল মিরাজ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর ছোট ছেলে রাকিবুল ইসলাম (৭) আকুন্দবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।


পরিবারের ভরসা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম দুজনকে হারিয়ে স্ত্রী সাবিনা খাতুন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শোকে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন। ছোট্ট রাকিবুল একটানা কেঁদে মায়ের বুক আঁকড়ে ধরে আছে। তার বুকফাটা আহাজারি মুহূর্তেই চারপাশের মানুষকে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করছিল। পুরো গ্রাম যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু কান্নার রোল; কোথাও ভাঙা বুকের হাহাকার, কোথাও নিস্তব্ধ নীরবতা। স্বজনরা বলছিলেন, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এর আগে তারা কখনো দেখেননি।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত