রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা প্রধান সড়কে খানাখন্দের রাজত্ব, দুর্ভোগে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রতিশ্রুতি মিললেও সংস্কার হয়নি, নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৮-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা প্রধান সড়কে খানাখন্দের রাজত্ব, দুর্ভোগে জনজীবন বিপর্যস্ত

চুয়াডাঙ্গা শহরের নতুন জেলখানা থেকে ফকিরপাড়া এবং দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে রেলগেট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা এখন ভয়াবহ। খানাখন্দ আর জমে থাকা পানিতে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করলেও প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছর আগে ছোট ছোট গর্ত ছিল। এখন সেই গর্তই ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। মাঝে মাঝেই ছোট ছোট পণ্যবাহী গাড়ি গুলো আটকে যাচ্ছে এই গর্তে।
ভ্যানচালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার গর্তে বারবার চাকা আটকে যায়। যাত্রী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় উল্টে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।’ ইজিবাইক চালক সালাউদ্দিন মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির টায়ার, ব্যাটারি নষ্ট হচ্ছে। একদিকে যাত্রী কম পাচ্ছি, অন্যদিকে মেরামতে খরচ বাড়ছে। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।’


বাসচালক আব্দুর রশিদ জানান, ‘প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। উঁচু-নিচু জায়গায় ওঠা-নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে। যাত্রীরাও আতঙ্কে নামেন।’ ট্রাকচালক আরমান আলী বলেন, ‘বড় গাড়ি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। পণ্য নামানোর সময় বেশি বিপদে পড়তে হয়। একটু অসাবধান হলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে।’


স্কুলশিক্ষার্থীসহ পথচারীরাও প্রতিদিনই গর্তে জমে থাকা পানি আর কাদায় নাজেহাল। পথচারী লায়লা খাতুন বলেন, ‘পানি জমে থাকায় রাস্তা পার হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছে। গাড়ি থেকে পানি ছিটকে জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে, অনেক সময় কাদায় পড়ে আহতও হচ্ছেন অনেকে।’


চুয়াডাঙ্গার নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক ছোট ছোট গর্তে ভরে আছে। এখন সেই গর্তই ভয়াল রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে। সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে, না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’


চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, ‘ভাঙা সড়কের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে কিছু এলাকায় রিপেয়ারিং কাজ চলছে। এই সড়কের ছোটখাটো সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে।’ কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই প্রতিশ্রুতি শুনে যাচ্ছেন, কিন্তু কোনো টেকসই সংস্কার হচ্ছে না।


চুয়াডাঙ্গা শহর ও দর্শনার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কটি এভাবে অচলাবস্থার মুখে পড়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সংস্কার শুরু না হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়বে এবং জনজীবন হবে আরও দুর্বিষহ।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত