জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পুরাতন চাকলা গ্রামের নজরুল ইসলাম ওরফে নজু মেম্বারের বিরুদ্ধে আবাদি কৃষি জমিতে পুকুর খননের নামে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, বহু অভিযোগে অভিযুক্ত ও আওয়ামী লীগের দোসর নজরুল ইসলাম সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে পুরাতন চাকলা গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থান সংলগ্ন নিজ জমিতে পুকুর খননের নামে বালু উত্তোলন করছেন। সেই বালু রাতের আধারে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন। প্রতি রাত ১০টা থেকে ফজরের আজান পর্যন্ত বালু বোঝাই ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া-আসা করছে। এছাড়া কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করার নামে বালু উত্তোলন করায় গ্রামের গোরস্থানও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পুরাতন চাকলা গ্রামে দেখা যায়, কবরস্থান সংলগ্ন অন্তত ৭ বিঘা নিজ কৃষি জমিতে পুকুর খনন করেছেন রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম। পুকুর থেকে উত্তোলন করা বালু দুই পাশে লাঠ দিয়ে রেখেছেন। সেসব বালু রাতের আধারে ভাটাসহ বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে থাকেন।
রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, নজরুল ইসলাম একজন আওয়ামী লীগের দোসর। আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছাড়া হলেও তিনি এলাকায় এখনো আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করছেন। গ্রামের মানুষদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার জোর দেখিয়ে গ্রামের কবরস্থান সংলগ্ন নিজের জমিতে পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এবং সেই বালু বিক্রি করছে। আমরা গ্রামবাসীরা এর প্রতিবাদ করলে সে আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে দুজন সাংবাদিক এসেছিলেন এখানে। আমি দেখাচ্ছিলাম পুকুর থেকে বালু তোলার কারণে কবরস্থানের ক্ষতি হবে। তাদের সামনে নজরুল আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ‘দিনে পাওয়ার ট্রিলারে ও রাতে ট্রাক্টরে করে বালু বহন করা হয়। যেটা আইনত অপরাধ। নজরুল আওয়ামী লীগ করলেও তার ভয়ে আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারি না। সে এতো ক্ষমতাবান। আমরা ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি। ইউএনও স্যার তাকে বলেছেন পুকুর খনন করতে গিয়ে কোনোভাবে যেন কবরস্থানের ক্ষতি না হয়। সে জন্য নজরুলকে স্লাব দিয়ে বাধ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সে ইউএনও স্যারের কথাও শোনেননি।’
এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করেছি। এতো বালু বের হয়েছে, সেগুলো কী করব। অনেকে ফ্রি নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি আমি এই করস্থানেও বালু দিয়েছি।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল-আমীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সমীকরণ প্রতিবেদক