‘ধানের শীষের জন্য আমরা মাঠ রেডি রেখেছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা একসাথে কাজ করব’ বলে মন্তব্য করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। গতকাল শনিবার বিকেল চারটায় আলমডাঙ্গা শহরের এরশাদ মঞ্চে আগামী ফেব্রুয়ারি-২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে অনুষ্ঠিত জনসভায় এ কথা বলেন মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন।
গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকেই জনসভায় অংশগ্রহণ করতে আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা দলে দলে উপস্থিত হতে থাকেন জনসভাস্থল উপজেলা পরিষদ চত্বরের এরশাদ মঞ্চে। ধীরে ধীরে জনসভাস্থল নেতা-কর্মীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে গাদাগাদি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এরপর জনসভাস্থল সংলগ্ন রাস্তায় ও উপজেলা পরিষদ চত্বরের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে। মূলত জনসভা চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে প্রায় ৭টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা শহর যানজটের কবলে পড়ে। ব্লক হয়ে যায় পুরো শহর। এসময় শহর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে শহরের প্রবেশ মুখে বিভিন্নভাবে যানজটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা রোড, স্টেশন রোড, চারতলা তলা মোড়সহ পুরো শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। হেঁটে হাজার হাজার নেতা-কর্মী রাস্তায় দখল করে ফেলে। ‘শহীদ জিয়া অমর হোক, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ্য জিয়া ঘরে ঘরে, তারেক জিয়া বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশ,’ এ ধরনের নানা স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো শহর। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আনন্দ করতে করতেও অসংখ্য নেতা-কর্মীকে জনসভায় আসতে দেখা যায়।
জনসভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘একটি প্রায় ধ্বংসস্তুপ দলকে প্রতিনিয়ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তারেক রহমান আমাদের উজ্জিবিত করেছেন। ফ্যাসিস্টদের নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে হলেও আমরা কেন্দ্র ঘোষিত প্রত্যেকটি দলীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছি। মনোনয়ন নিয়ে আমি কথা বলব না। কথা হলো একটাই- আমাদের মার্কা ধানের শীষ। ধানের শীষের জন্য আমরা মাঠ রেডি রেখেছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে, আমরা একসাথে কাজ করব।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, ‘নতুন করে বলার কথা নাই। আজকে আমাদের জনসমুদ্র থেকে প্রমাণিত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির প্রত্যেকটি ইউনিট শক্তিশালী। আপনারা প্রত্যেকে এই দলের দায়িত্ব পালন করেন। আহ্বায়ক কমিটি থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটিগুলো তৌরির সময় বারবার বাধা দেয়া হয়েছে। শত কষ্টেও প্রতিটি স্থানে নির্বাচনের মাধমে ইউনিয়ন কমিটি হয়েছে। আমাদের কোনো পকেট কমিটি নেই। তফসিল দিয়ে প্রকাশ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা এবং পৌর কমিটি তৈরি হয়েছিলো। এই ফর্মুলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তিনি প্রকাশ্যে ভোটাভোটির মাধ্যমে কমিটি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জেলা কমিটি গঠনের সময় অনেকে অপচেষ্টা করেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা কমিটি হবে। সেটাই আমাদের জেলায় হয়েছে।’
এসময় শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন, “এখনো সংগ্রাম শেষ হয়নি। গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।” আমরা বলতে চাই, মনোনয়ন যেই পাক না কেন, আমরা ধানের শীষের হয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসন আমাদের মা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারি, সেটিই আমাকের লক্ষ্য। এখানে ব্যক্তির কোনো মূল্য নেই। মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। আমরা চাই- সেটি সাংগঠনিকভাবে হোক। এই ১৭ বছর যারা নির্বিচারে মামলা খেয়েছে, বছরের বছর পর অত্যাচারের শিকার হয়েছে, জেল খেটেছে। তাঁদেরকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছে, তাদের কথাও ভাবতে হবে। জনাব তারেক রহমানের প্রত্যেক উপজেলায় লোক আছে। তিনি সকল খবর রাখেন।’
শরীফুজ্জামান শরীফ নেতা-কর্মীদের সর্তক করে বলেন, ‘কোনো সালিশ বিচারে আমরা যাবো না। বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে শহীদ জিয়ার লোক বারবার দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এ দেশকে সুসংগঠিত করেছে। আপনার আচরণে যেন মানুষ আমাদের হয়ে সংগঠিত হয়, সেদিকে সবাই নজর রাখবেন। সবার রিপোর্ট আমার কাছে আছে। একটি ভুলের কারণে সমস্ত ত্যাগ বৃথা হয়ে যাবে। মনে করবেন না, গ্রামে হচ্ছে কেউ জানবে না, তা নয়- দল সব জানে। দলের হাত মাথার ওপর থেকে চলে গেলে বাড়ি ঘুমাতে পারবেন না। ভুল ক্রটিগুলো সংশোধন এখনি করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফাসিস্ট মুক্ত হয়েছিলো এ দেশ। সেই মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান পিণ্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ওল্টু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর মণ্টু, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক অ্যাড. আ স ম আব্দুর রউফ, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু ও জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন। জনসভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সকল ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩০ হাজার লোকের সমাগম হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক