ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গায় উদ্যাপিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে বিভিন্ন মণ্ডপের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার সত্যনারায়ণ মণ্ডপ থেকে শুরু হয়ে শহরের বড় বাজার, কবরী রোড, কলেজ রোড, কোর্ট মোড় ঘুরে পুনরায় মণ্ডপে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলার বিভিন্ন মন্দির থেকে আগত ভক্তরা ঢাক-ঢোল ও নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। ভক্তরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগের ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তিনি ছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক ও মহাবতার, যিনি অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কান্তি দাস, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের জেলা আহ্বায়ক সুরেশ কুমার আগরওয়ালা, সদস্যসচিব উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, পূজা কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক উৎপল কুমার বিশ্বাস, ব্রাহ্মণ পুরোহিত ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি দেবেন্দ্রনাথ দোবে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া বড় বাজার দুর্গা মন্দির, তালতলা দুর্গা মন্দির, মালোপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গা ও কালী মন্দির, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ মাঠপাড়া মন্দির, বেলগাছি দুর্গা মন্দির এবং দর্শনা পুরাতন বাজার মন্দিরসহ নানা এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ঘিরে পুরো শহর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই উচ্ছ্বাস আর ভক্তির আবহে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উদ্যাপন করেন।
অপর দিকে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দর্শনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গতকাল রঙিন আয়োজনের মধ্যদিয়ে উৎসব উদ্যাপন করেছেন। ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাশি ও বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে আর উলুধ্বনিতে পুরো শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় আনন্দের মহোৎসবে। কড়া পুলিশ প্রহরায় কেরু চিনিকলের মিলগেট থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন বাজার মন্দিরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দর্শনা মন্দির কমিটির আয়োজনে এ উৎসবে অংশ নেন- জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, সদস্য বিজয় হালদার, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ ভৌমিক, জেলা কমিটির সদস্য দেবুতোষ বিশ্বাস, দর্শনা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি অনন্ত শান্তারা, পুরাতন বাজার মন্দির কমিটির উপদেষ্টা দুলাল চন্দ্র দে, অবনি মোহন শান্তারা, শৈলেন শান্তারা, কাজল সাহা, পরিমল, আশুতোষ, বাধন, প্রান্ত দেবনাথ, নকুল, অমল পাল, প্রণয়, শোভন দাস, নিরঞ্জন স্বপন, অরুণ, অসিম, মিঠুনসহ অসংখ্য ভক্ত। দামুড়হুদা ও দর্শনা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ, যুবক, কিশোর ও শিশুরা অংশ নিয়ে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
নিজস্ব প্রতিবেদক