চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারের ৩০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়ন করে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা ভোগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি বিভিন্ন অজুহাতে এই অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না, যা সরকারি ক্রয়বিধি (পি.পি.আর) আইনের পরিপন্থী। ভুক্তভোগী ঠিকাদার এমএস মনির ট্রের্ডাসের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন এ বিষয়ে লিখিতভাবেও জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের কাছে। তবে তারপরও তিনি কোনো সুরাহা করেননি।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার এমএস মনির ট্রের্ডাসের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান এমএস মনির ট্রেডার্স, প্যাকেজ নম্বর অজজচ-৪৭৯ কাজটির কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়। কার্যাদেশ প্রাপ্তির সাথে সাথে যথাসময়ে সাইটে কাজ শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করে চূড়ান্ত বিল গ্রহণের সময় অনৈতিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে ৩টি পে-অর্ডার চান চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম। আমার আর্থিক ইনভেস্টমেন্ট-এর কথা ও বিল গ্রহণের কথা চিন্তা করে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখা হতে ৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে ৩টি পে-অর্ডার- (৩১২৬৮৯৫, ৩১২৬৮৯৬, ৩১২৬৮৯৭) মোট ৩০ লাখ মো. আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা নামে তার নিকট জমা দেওয়া হয়।’
কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘পরবর্তীতে পে-অর্ডারের টাকা ফেরত প্রদানের জন্য চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের কাছে বারবার অনুরোধ করা হয়, তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পে-অর্ডারের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। আমার ম্যানেজার তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সমাধান দিচ্ছেন না। উপরন্ত তিনি আমার ম্যানেজারের সাথে অসদাচারণ করেছেন। আমার ম্যানেজারের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন না এবং অফিসকক্ষেও ঢুকতে দিচ্ছেন না।
বিশেষ সূত্রে জানতে পেরেছি, পে-অর্ডারের টাকা নগদায়ন করে তিনি নিজে এর সুবিধা ভোগ করছেন, যা পি.পি.আর আইনের সম্পূর্ন পরিপন্থি। পে-অর্ডারের অর্থ ফেরত না দিয়ে তিনি নিজের স্বার্থ হাসিল করছেন। তাকে বারবার এই পে-অর্ডারের ৩০ লাখ টাকার পে-অর্ডার অথবা সমপরিমাণ টাকার চেক ইস্যু করার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি তা করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাননীয় উপদেষ্টা, সচিব, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট স্থানে আমি অনুলিপি দিয়েছি। আমি দ্রুত বিষয়টির একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই।’ এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক