চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক মজু আর নেই। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মজিবুল হক মালিক মজু ছিলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। তিনি মরহুম এহসানুল হক মালিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মজিবুল হক মালিক মজু বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রথমে ডা. পরিতোষ কুমার ঘোষের কাছে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নেয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের ইসিজি করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আমরাও মানুষের জন্য’-এর উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ কামরুজ্জামান ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সারোয়ার বাবু, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ও সদস্য সচিব, দৈনিক সময়ের সমীকরণ পরিবারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বেলা ১১টায় তার লাশ নিজ বাসভবনে নেয়া হলে এলাকাজুড়ে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন তার স্বজন, প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। গতকাল বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শহরের টাউন ফুটবল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজকে এই মানুষের ঢল দেখে আপনারা বুঝতে পারছেন যে তিনি মানুষের কাছে কতটা প্রিয় ছিল। তিনি আমাদের চুয়াডাঙ্গার মিষ্টভাষী এবং জনপ্রিয় একজন মানুষ। আমাদের মজু ভাই চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আজকে আমাদের প্রত্যেকটি ইউনিটের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকলে এখানে উপস্থিত আছেন। সবাই মজু ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন। উনি চলে যাওয়াতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, তা আমার জানা নেই। মানুষ মাত্রই ভুল হয়, মজু ভাইয়ের চলার পথে যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে আজকে তার বিদায়ের পথে তাকে মাফ করে দিবেন। এবং আজকে সবাইকে মজু ভাইয়ের চলে যাওয়া থেকে শিক্ষা নিতে হবে, আসার সিরিয়াল আছে যাওয়ার কোনো সিরিয়াল নেই। আজকে দেখেন, ওনার এত ধনসম্পদ, সন্তান, পরিবার সব রেখে শূন্য হাতে তিনি চলে যাচ্ছেন। আমরা যেন সবাই ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি এবং আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে রাখি।’
মরহুমের সহোদর মকসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের চলার পথে যদি কোনো ভুল হয়, তবে আপনারা সবাই তাকে মাফ করে দিবেন। আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন। আমার ভাইয়ের যদি কোনো ঋণ থাকে, আমাদের জানাবেন, আমরা পারিবারিকভাবে সেটার সমাধান করার চেষ্টা করব।’
মরহুমের জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তার একমাত্র ছেলে ফারসিদ মালিক, তার তিন ভাই মকসুদুর রহমান মালিক, শাহরিন মালিক ও মইনুল ইসলাম মালিকসহ অন্যান্য স্বজনেরা। আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন।
রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে জানাজায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা মৎসজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এম এ তালহা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জানাজা শেষে চুয়াডাঙ্গা রেলপাড়া জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক