রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জ্যোতির নামে সাহায্য চেয়ে প্রতারণা, সতর্কবার্তা পরিবারের

অনুদান সংগ্রহকারীরা প্রতারক, বঁাঁচ্চাদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে পরিবার
  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৮-২০২৫ ইং
জ্যোতির নামে সাহায্য চেয়ে প্রতারণা, সতর্কবার্তা পরিবারের

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে নিহত ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির (৩২) সন্তানদের সহায়তার নামে অর্থ আদায়কারীরা সবাই প্রতারক, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গায় জ্যোতির পরিবারের সদস্যরা জানান, ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে সহানুভূতির গল্প শুনিয়ে যারা অর্থ তুলছেন, তারা সবাই প্রতারণার উদ্দেশ্যে কাজ করছেন।


গত ২৭ জুলাই রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ হন জ্যোতি। পরপর কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর ২৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর শালিকচুড়া (টেকপাড়া) বিল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা জ্যোতি সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মৃত মুন্সি ওয়ালিউল্লাহ বাবলুর একমাত্র মেয়ে। রাজধানীর মিরপুরে ৮ বছর বয়সী জমজ সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। ‘মনি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল হেলথ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়া এবং লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার সুযোগকে পুঁজি করে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র মাঠে নেমেছে বলেই দাবি জ্যোতির পরিবারের।


নিহতের বড় ভাই হাসানুজ্জামান লোটন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কিছু অসাধু ব্যক্তি সমাজে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দোকান ও জনবহুল স্থানে গিয়ে বলছে, ‘মেয়েটির দুই সন্তান এতিম হয়ে গেছে, সাহায্য করুন।’ এসব মিথ্যা ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই ভাই আর্থিকভাবে সচ্ছল ও প্রতিষ্ঠিত। আমার বোন ২০১৮ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন। তখন দুই জমজ সন্তানের বয়স ছিল মাত্র এক বছর। তারপর থেকে তিনি একাই সন্তানদের লালন-পালন করেছেন। সন্তানদের বর্তমান বয়স ৮ বছর। আমার বোন উচ্চশিক্ষিত ছিল, ঢাকায় একটি কোম্পানির এনএসএম হিসেবে কাজ করতেন এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের জন্য জীবন কাটিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে আমাদের কোনো অর্থসাহায্যের প্রয়োজন নেই।’


তিনি জানান, ‘সিটি কর্পোরেশন এবং কিছু সংগঠন যোগাযোগ করেছিল, ‘আমরা তখনই জানিয়েছি অর্থ নেব না। এমনকি ২৯ জুলাই যেদিন মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই আমরা সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়ে এসেছি।’
ভবিষ্যতে জ্যোতির সন্তানদের জন্য নেয়া পারিবারিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে লোটন বলেন, ‘দুই ভাগ্নে আমাদের কলিজার টুকরো। আমরা চাই না, তারা বাবার ভালোবাসা থেকেও বঞ্চিত হোক। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারা তাদের বাবার কাছে থাকবে। দাদি, বাবা ও মামারা মিলে তাদের মানুষ করবে ইনশাআল্লাহ। আমার বোনের সম্পত্তি শিশুদের নামে হস্তান্তর করা হবে। বাসা ও দোকান ভাড়ার টাকা প্রতি মাসে ব্যাংকে জমা হবে। বোনের গহনা ও মূল্যবান জিনিসও ইতোমধ্যে ব্যাংকে তাদের নামে জমা রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হলে তারা তা ব্যবহার করতে পারবে। আমরা চাই না, তারা কোনো শূন্যতা অনুভব করুক।’


জ্যোতির ছোট ভাই আকরামুজ্জামান শোভন বলেন, ‘আমাদের বোনের কলিজার টুকরো দুই শিশুকে ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করবো। আমাদের দুই ভাই এবং আমাদের সন্তানরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জ্যোতি তার সন্তানদের প্রাণের চেয়েও ভালোবাসতেন। মা হারা ওই শিশুদের দিকে তাকালে হৃদয় ফেটে যায়। কিন্তু আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই আমাদের।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত