সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী অর্ণার অকাল মৃত্যু : শোক
- আপলোড তারিখঃ
২৫-১০-২০১৭
ইং
সাংবাদিক-শিক্ষক আব্দুস সালামের মেয়ের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা আব্দুস সালামের একমাত্র মেয়ে জারিন তাসনিম অর্ণা সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ১৩ বছর বয়সী অর্ণার অকাল মৃত্যুতে শোকে কাতর হয়ে পড়েছে তার পরিবার ও স্বজনেরা। মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেধাবী ছাত্রী অর্ণার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি......রাজেউন)। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। অপরদিকে, ডাক্তারদের ভূল চিকিৎসা ও অবহেলার কারনে নিষ্পাপ এ মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বাদ মাগরিব তালতলা গ্রামে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সমিতির চুয়াডাঙ্গা জেলার শাখার আহবায়ক ও সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালাম ১ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক। মেয়ে জারিন তাসনিম অর্ণা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতি শিফটে সপ্তম শ্রেনীতে পড়তো। ছেলে সাজিদ একটি ইংলিশ মিডিয়াম কিন্ডার গার্টেন স্কুলে কেজি টুতে পড়ে। স্ত্রী সামিমা আক্তার সীমা প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। ভালই চলছিল তাদের এই ছোট্ট সোনার সংসার। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে সবকিছু যেন এলোমেলো করে দিয়ে গেলো তাদের সাজানো সংসার। চার দিনের জ্বরে তাদের একমাত্র মেয়ে অর্ণা চলো গেলো পরপারে। এক সপ্তাহ আগে অর্ণা টনসিলে ব্যাথা অনুভব করে। এরপর দিন থেকেই গায়ে হালকা জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের কারনে শুক্রবার হেলথ এইডে ডা. সাইফুল্লাহ রাসেলের কাছে অর্ণাকে দেখানো হয়। তিনি এটাকে তেমন জটিল রোগ না বলে উল্লেখ করেন এবং স্বাভাবিক জ্বরের ব্যবস্থাপত্র দেন। সেই মোতাবেক তিন দিন ঔষধ খেলেও জ্বর নামার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। এরপর আব্দুস সালাম তার মেয়েকে নিয়ে সোমবার সকালে শিশু বিশেষজ্ঞ আসাদুর রহমান মালিক খোকনের কাছে যান। তিনিও রোগটাকে জটিল না ভেবে সাধারন ব্যবস্থাপত্র দেন। ওই দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে অর্ণা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কোন উপায় নে পেয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় অর্ণাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হলেও টানা ৫ ঘন্টা সে কোন চিকিৎসা পায়নি। ডাক্তার ডাকলে আসছি আসছি করে দীর্ঘ সময় পার করে দেয়। অবশেষে রাত সাড়ে ৯টায় ডা: আসাদুর রহমান মালিক খোকন এসে অর্ণাকে দেখেন। দেখে কয়েকটি নতুন ব্যবস্থাপত্র দেন। তখনও তিনি বলেন, ভয়ের কিছু নেই, ঠিক হয়ে যাবে। রাতে বাড়িতে নিয়ে গেলেও কোন সমস্যা হবে না। মঙ্গলবার সকালে অর্ণার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। সকাল ১০টার দিকে সে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষ এসে জীবন রক্ষার শেষ চিকিৎসা ইনজেকশন কর্ডসন দেন। এরপর তাকে বাইরে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। শুরু হয় অপেক্ষার পালা। স্বজনেরা খুজতে থাকে হেলিকপ্টার অথবা এয়ার এ্যাম্বুলেন্স। বেলা সাড়ে ১২টায় স্কায়ার হাসপাতালের এয়ার এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। কিন্তু এয়ার এ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই বেলা সোয়া ১টার দিকে ডাক্তার পরিতোষ কুমার ঘোষ ও ডা: আসাদুর রহমান মালিক খোকন রোগীকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এর আগে তারা অর্ণাকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন।
মুহুর্তেই তার মৃত্যুর সংবাদ শহরে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরী হয়। পরে তাকে গ্রামের বাড়ি তালতলায় নেয়া হয় । বাদমাগরিব নামাজে জানাযা শেষে তলতলা ঈদগা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন কাজে চুয়াডাঙ্গা প্রেসকèাবের সভাপতি আজাদ মালিতা, মাথাভাঙ্গার সম্পাদক সরদার আল আমিন, আকাশ খবর সম্পাদক এ্যাড তছিরুল আলম মালিক ডিউক, আওয়ামী লীগে নেতা হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক বিপুল আশরাফ, রফিক রহমান, রাজীব হাসান কচিসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সর্বস্থরের জনতা অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার বাদ আছর তালতলায় নিজ বাড়িতে মরহুমার স্বরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হবে।
আব্দুস সালামের মেয়ে অর্ণার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান জাতীয় সংসদের হুইপ চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। সমবেদনা জানান চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদ মালিতা, সাধারন সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার আল আমিন, চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহাতাব উদ্দীন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এম এ মামুন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, আব্দুস সালামের সহকর্মিবৃন্দ, আতœীয় স্বজনসহ অর্ণার সহপাঠীরা।
কমেন্ট বক্স