তারপরও হচ্ছে প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন!
- আপলোড তারিখঃ
২৪-১০-২০১৭
ইং
ঝিনাইদহের ১৬৪টি ক্লিনিকে লোকবল সর্বক্ষন ডাক্তার ও নার্স নেই
ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের বেশির ভাগ ক্লিনিকগুলোতে সর্বক্ষন ডাক্তার নেই, নার্স নেই। নেই চিকিৎসা দেওয়ার মতো উন্নত পরিবেশ। অপারেশন থিয়েটার দেখলে মনে হবে গৃহস্থবাড়ির রান্নাঘর। অনেকটা ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সরদারের মতো। তারপরও প্রতি বছর ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় সর্বমোট ক্লিনিক ও ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার আছে ১৬৪টি। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় আছে ৬৭টি, হরিণাকুন্ডুতে ১৩টি, শৈলকুপায় ১৯টি, মহেশপুরে ১৮টি, কালীগঞ্জে ৩১টি ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১৬টি। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে নিদ্দিষ্ট ছকে পাঠানো তালিকায় দেখা গেছে খোদ ঝিনাইদহ জেলা শহরে অবস্থিত অনেক ক্লিনিকে জনবল, যন্ত্রপাতি, সর্বক্ষন ডাক্তার এবং নার্স নেই। জনবল নেই এমন তালিকায় রয়েছে ইসলামী প্রাইভেট হাসপাতাল ডাকবাংলা, সৃজনী হাসপাতাল, হলিধানী বিএম প্রাইভেট হাসপাতাল, শহরের কেয়ার হাসপাতাল, সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা প্রাইভেট হাসপাতাল, ঝিনাইদহ শহরের ল্যাব এইড প্রাইভেট হাসপাতাল, বাজার গোপালপুরের নিউ ইসলামী প্রাইভেট হাসপাতাল ও গোয়ালপাড়া হাবিবা প্রাইভেট হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই অথচ লাইসেন্স আছে এমন তালিকায় রয়েছে মেহেরুন্নেছা ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, অন্তি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, ল্যাব কেয়ার, মেডিল্যাব, নুর জাহান, আরএমপি, সালেহা, জননী, লাইফ কেয়ার, ডক্টরস ল্যাব, রয়েল, আল মামুন, মুক্তি প্যাথলজি, সুর্য্যের হাসি, ইসলামীয়া, ইসলামী, কেয়ার, তাসলিমা, জাহান, নবগঙ্গা, ক্রিসেন্ট, সমতা, পপুলার, ফামেতা শুক্তি, আল আমিন, আল মদিনা, শাপলা, যমুনা, আমেনা, ফিরোজ, রাহেলা প্রিন্স, এ্যপেক্স, ছন্দা হাবিবা, নিউ ইসলামী, জনসেবা, আনোয়ারা, শতাব্দী ও ফিরোজ ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। ডাক্তার, নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই তারপরও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে হরিণাকুন্ডুর জনসেবা, নিউ রেসিডো, আলহেরা, আনোয়ারা, ভাই ভাই ও শিখা প্রাইভেট হাসপাতালকে। এছাড়া ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের মধ্যে রয়েছে নিপুন, শিখা, আরাফাত, জনসেবা, আনোয়ারা, শতাব্দী ও ফিারেজ ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। এমন তালিকায় শৈলকুপার নিউ মহিলা শিশু ক্লিনিক, পশিক সেবা, তানিশা, আয়েশা, লাঙ্গলবাধ প্রাইভেট হাসপাতাল, খোন্দকার, সাইদা, শৈলকুপা ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, রাব্বি ও লালন শাহ ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারকে। মহেশপুরের সুমি, মুক্তি, মা ও শিশু, সুমন, সীমা, ভৈরব বাজারের মডার্ণ, নেপা বাজারের একতা, কুশোডাঙ্গার গ্রামীন, ভৈরব বাজারের সচিব, জলিলপুরের মহিউদ্দীন, পুরোপাড়ার আর এম রণি, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের মধ্যে রয়েছে ল্যাব স্কীন, খালিশপুরের আল রাজি, ম্যাডিল্যাব, সনো, সালেহা ও গ্রীন লাইফ। কোটচাঁদপুরের জনতা ক্লিনিক, নার্সিং হোম, সামস উদ্দীন মেমোরিয়াল, একতা, সিটি, মাহবুবা, আশশেফা, কর্ণফুলি, সামস উদ্দীন,আল্টারভিশন, মেডিল্যাব, এ্যাডভান্স, ইবনে সিনা, মাহবুবা, ইউনিক ও মেসার্স সজিব ল্যাব এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার। কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৬টি ক্লিনিক ও ১৪টি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার আছে। তার মধ্যে ৬টি ক্লিনিক ভাল চলে বলে সিভিল সার্জনের রিপোর্ট উল্লেখ আছে। অভিযোগ উঠেছে, সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় কর্মচারী ক্লিনিক ও ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়নের জন্য ঢাকায় পাঠায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকে ডাক্তার ও নার্স না থাকলেও কি ভাবে লাইসেন্স নবায়ন হয় তা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে। এই মানহীন ক্লিনিক ব্যবসা শ্রেফ বানিজ্যিক বলেও অনেকর অভিমত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, গ্রাম, বাজার ও শহরে ক্লিনিকগুলো আছে বলেই মানুষ কিছুটা সেবা পাচ্ছে। তা নাহলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল রোগীর চাপ সহ্য করতে পারতো না। ওই চিকিৎসকের ভাষ্যমতে দুরের রোগী ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আনতে হলে তার অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়তো। সেই দৃষ্টিকোন থেকে সর্বক্ষনিক ডাক্তার ও নার্স না থাকলেও প্রাথমিক সেবার জন্য হয়তো প্রতি বছর ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ রাশেদা সুলতানা জানান, আমরা অভিযোগ পেলেই ত্রুটিপুর্ণ ক্লিনিকগুলো সিল গালা করে বন্ধ করে দিচ্ছি। তিনি বলেন, এমন এক সময় আসবে জেলায় মানহীন কোন ক্লিনিক থাকবে না।
কমেন্ট বক্স