গত শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুরে মনিরুল ইসলাম (৫০) নামের এক দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলার ৫ ঘণ্টার মধ্যে পার্শ্ববর্তী আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার শিকার মনিরুলের স্ত্রী পাপিয়া খাতুনকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। গতকাল রোববার জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ঘটনার দিন রাত নয়টার দিকে জহির বাদী হয়ে ভাই মনিরুলকে হত্যার অভিযোগে ভাবী পাপিয়া খাতুন ও ভাইয়ের ছেলে রাজুকে আসামি করে হত্যা মামলা দয়োর করেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়া পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই মনিরুল তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। তাঁর স্বামী পরকীয়ার সম্পর্কেও লিপ্ত ছিল। এসব নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি মনিরুল স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামে ভিটা জমি কেনেন। জমিটা পাপিয়া তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করার কথা থাকলেও দেননি মনিরুল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এছাড়া পাপিয়ার ছেলে রাজুর বিদেশ যাওয়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এসব বিষয় নিয়ে শনিবার সকাল থেকে মনিরুলের সঙ্গে স্ত্রী পাপিয়া ও ছেলে রাজুর কলহ চলছিল। এর একপর্যায়ে মনিরুল স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তখন পাপিয়া বলেন, হয় এই বাড়ি তুই থাকবি, নাই আমি থাকব। এর একপর্যায়ে একটি হাঁসুয়া দিয়ে স্বামীর গলাই কোপ দেয় পাপিয়া। পরে পাপিয়া পালিয়ে আলমডাঙ্গায় খালার বাড়িতে চলে যান। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। রাত ৪টার দিকে তাকে আলমডাঙ্গার বাশবাড়িয়ায় খালার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহত মনিরুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার বালিহুদা গ্রামের মৃত দিদার উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। শনিবার দুপুরের দিকে মনিরুল ইসলামকে গলা কেটে করে হত্যা করা হয়। বেলা একটার দিকে প্রতিবেশীরা মনিরুল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ ঘরে পড়ে থাকতে দেখে জীবননগর থানা-পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল পাপিয়া (৪২) ও তাঁর ছেলে রাজু (২৬)। পরে রাতে আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেশী আকিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর মনিরুল ইসলামের ছেলে রাজু (২৫) তার কাছে মোবাইল ফোনে খবর নেয় তারা পিতা মারা গেছে কি না? এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘রাতে ভাইকে হত্যার ঘটনায় মনিরুলের ভাই জহির বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাঁসুয়া ও একটি কুড়াল জব্দ করা হয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে মনিরুলের স্ত্রী পাপিয়াকে তাঁর খালার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলার অপর আসামি এখনো পলাতক রয়েছে, তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি।’
এদিকে, গতকাল দুপুরে সদর হাসপাতাল মর্গে নিহত মনিরুল ইসলামের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে গ্রাম্য কবরস্থানে তার লাশের দাফনকার্য শেষ হয়। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার পাপিয়াকে গতকালই আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে পাপিয়ার জবানবন্দী নিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
জীবননগর অফিস