রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে একযোগে বিএনপির মৌন মিছিল, কালো পতাকা হাতে কর্মীরা

গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ, তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৭-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে একযোগে বিএনপির মৌন মিছিল, কালো পতাকা হাতে কর্মীরা

সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে মৌন মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার’ বন্ধের দাবি জানান।

পাশাপাশি বক্তারা অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। তিন জেলাতেই স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটে। আয়োজিত মিছিলে দলীয় কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন ও কালো পতাকা নিয়ে নীরবভাবে অংশ নেন। 

চুয়াডাঙ্গা:
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে, বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির উদ্যোগে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা সাহিত্য পরিষদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলুর সভাপতিত্বে মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তাতে একটি স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। সেই স্বৈরাচার এখনো ষড়যন্ত্র করে চলেছে। আপনারা জানেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও নানান কুৎসা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের আকাক্সক্ষা হলো- যারা ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি, তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। চুয়াডাঙ্গার মাটি ও মানুষ বিপ্লব করতে জানে, যুদ্ধ করতে জানে। আপনারা জানেন, স্বাধীনতার যুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার মানুষ সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী এই শহিদ হাসান চত্বরে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই, শপথ নিতে চাই-যে কোনো ষড়যন্ত্র তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারবে না।’


জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম মনি, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান পিণ্টু ও দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে যারা সরকার চালাচ্ছে, তারা কারও প্রিয় লোক হয়ে রাষ্ট্র চালাচ্ছে। তারা এখনো বলতে পারছে না, ভোট কবে হবে। ২০০৭ সাল থেকে আমরা বহু খেলা মোকাবিলা করেছি। আমরা দল কাঁপিয়ে মেডেল নিয়ে মঞ্চে এসেছি। এবার আর কোনো খেলা বরদাস্ত করব না। সে সরকার হোক, এনসিপি হোক, কিংবা খুনি হাসিনা হোক-আর কোনো খেলা বরদাস্ত করব না। দরকার হলে রাজপথেই মোকাবিলা করব এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে কাক্সিক্ষত নির্বাচন আদায় করে ছাড়ব-ইনশাআল্লাহ।


বক্তারা আরও বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একসময় বলেছিলেন- গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করা হবে। আমরা আশাবাদী, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিশ্চয়ই গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করা হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন মানুষের মাধ্যমে এসেছে, সেটি ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার বহিঃপ্রকাশ গোপালগঞ্জে দেখা গেছে। গোপালগঞ্জের দোসরদের উপড়ে ফেলতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, দর্শনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আবুল হাসেম, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুল হক মহাবুব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীনসহ দলের সকল ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।


মেহেরপুর:
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো দমন-পীড়নে নিহত শহিদদের স্মরণে মেহেরপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এই মৌন মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহাজি পাড়ার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ জাভেদ মাসুদ মিল্টনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মৌন মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাড. কামরুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ মোহাম্মদ, সদস্য ইলিয়াস হোসেন ও আনসারুল হক। ‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। বর্তমান সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণআন্দোলনে যেসব ফ্যাসিস্ট বাহিনী হামলা চালিয়েছে, তাদের বিচার করা হবে। ‎তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস দমন করতে হলে দলমত নির্বিশেষে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। মেহেরপুরে কোনো টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। প্রশাসনকে বলছি-তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন। এছাড়াও বক্তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যারা তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার করছে, তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এই মৌন ‎মিছিল ও সমাবেশ। 


ঝিনাইদহ:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে ঝিনাইদহে মৌন মিছিল করেছে জেলা বিএনপি। মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। গতকাল বেলা ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে মৌন মিছিল বের হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদের নেতৃত্বে মৌন মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয় নেতা-কর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, এনামুল হক মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান, যুবদলের সভাপতি আহসান হাবীব রনক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিণ্টু, মহিলা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি, সাধারণ সম্পাদক তহুরা খাতুন, ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক প্রমুখ। সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জুলাই শহিদরা আমাদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় জুলাই শহিদদের স্বীকৃতির ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে শহিদ পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত