ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে প্রতীকী ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে নানা আয়োজনে এই প্রতীকী ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
জুলাই শহিদ দিবস ও ‘জুলাই পুনর্জাগরণ ২০২৫’ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য প্রতীকী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে এ দৌঁড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাঁশি বাজিয়ে দৌঁড়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মাওলা, জুলাই আন্দোলনে শহিদ মাসুদ রানা মুকুলের পিতা রায়হান উদ্দিন, শহিদ শাহরিয়ার শুভর পিতা আবু সাঈদ ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। প্রতিযোগিতা শুরু হয় সরকারি কলেজ শহিদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে, এরপর কোর্ট মোড় দোয়েল চত্বর, বাংলা মেডিকেল, কেদারগঞ্জ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সবার আগে গন্তব্যে পৌঁছান দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সজল ইসলাম। তিনি ৭ মিনিট ৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। দ্বিতীয় হন জেলা সদরের আকন্দবাড়ীয়া গ্রামের সবুজ, তার সময় লেগেছে ৭ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। সবুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর বসুভান্ডার এলাকার সুজন আলী, সময় লেগেছে ৭ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
ম্যারাথন শেষে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মাওলা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ডিডিএলজি) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সজীবুল ইসলাম প্রমুখ। উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত হবে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাবে। ম্যারাথন ঘিরে চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা বয়সের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে দেশপ্রেম ও ক্রীড়া মনোভাবকে প্রকাশ করে। আমরা আশা প্রকাশ করছি, এই প্রতীকী ম্যারাথনের মাধ্যমে দেশপ্রেম, ঐক্যবদ্ধতা ও ক্রীড়াবান্ধব মনোভাব আরও সুদৃঢ় হবে।’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-নাঈম। প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন সাংবাদিক ইসলাম রকিব, জাসাস সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম ও তরিকুল ইসলাম তরু।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতীকী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে থেকে দৌড় শুরু হয়। ম্যারাথনটি শহরের ওয়াপদা মোড়, কলেজ মোড়, হোটেল বাজার মোড় হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তরুণসহ বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথন শেষে ৩৬ জুলাই উপলক্ষে ৩৬ জন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের শিপন আলী। দ্বিতীয় হন সদর উপজেলার আহসান হাবীব ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সাজ্জাদ হোসেন। পুরস্কার পেয়ে প্রতিযোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঝে উদ্দীপনা বাড়াবে।’
ঝিনাইদহ:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে ঝিনাইদহে প্রতীকী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ম্যারাথনের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতায় ২০০ জন নানা বয়সের তরুণ-তরুণী, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে সার্কিট হাউজের সামনে দিয়ে স্বর্ণকার পট্টি ঘুরে পোস্ট অফিস মোড় ঘুরে ৩ কিলোমিটার ঘুরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে শেষ হয় এ ম্যারাথন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলকিস আফরোজ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ: আওয়াল, জেলা ক্রীড়া অফিসার মিজানুর রহমান। দুই ক্যাটাগরিতে মোট ২৫ জন পুরস্কৃত করা হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন