আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ তুলে অনাস্থা জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের ৮ জন নির্বাচিত সদস্য। এ বিষয়ে একটি লিখিত অনাস্থাপত্র আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট দাখিল করেছেন ইউপি সদস্যরা। দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে অনাস্থা জানিয়েছেন জামজামী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ হক রাজন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুজ্জামান রাজিব, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আ. মান্নান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাজ্জাক লস্কর, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মতিয়ার রহমান, ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আলেয়া খাতুন এবং ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ববিতা খাতুন।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, গত চার মাস যাবত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং পরিষদের নিয়মিত কোনো সভা বা আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন না। এতে ইউনিয়নের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কিছু প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের রেজ্যুলেশন খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে গোপনে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া নাগরিক সেবা যেমন জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স প্রভৃতি পেতে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত গম ও নগদ অর্থ জোরপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান। অভিযোগ রয়েছে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের বরাদ্দকৃত ৫ মেট্রিক টন গমের অর্ধেক (আড়াই মেট্রিক টন) গম বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একইভাবে আরও কয়েকটি প্রকল্প থেকে সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত বিলের মোটা অংশ প্রদান না করায় সদস্যদের কাজের বিল আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও পছন্দের কিছু সদস্য ছাড়া অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অবমাননাকর আচরণ এবং আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ বিষয়ে জামজামী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সব মিথ্যা। আমাকে ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকতেই দেওয়া হয় না, এখন আমার চেয়ারম্যানি কেড়ে নেওয়ার জন্য এসব করা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘জামজামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদের ৮ জন সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, ইউপি সদস্যরা অনাস্থাপত্রের অনুলিপি প্রেরণ করেছেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সচিব, ইউপি শাখা-১, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক, এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখা বরাবর।
ভ্রাম্যমান প্রতিবেদক,আলমডাঙ্গা