চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো। রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় বিএনপি নেতা লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ এবং খুলনায় মাহাবুব মোল্লা হত্যাকাণ্ড, একইসঙ্গে চাঁদপুরে ইমামের ওপর নৃশংস হামলাসহ সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কোর্ট মোড় ঘুরে শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, জাসাস, ওলামা দলসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতা-কর্মী অংশ নেন। মিছিল থেকে ভেসে আসে- ‘হত্যার বিচার চাই’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাপছে’ ইত্যাদি স্লোগান।
চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কোনো দলীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের প্রাণের দাবির বহিঃপ্রকাশ। মিটফোর্ডে আমাদের নেতা লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ, খুলনায় মাহাবুব মোল্লা ও চাঁদপুরে এক ইমামের ওপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে- তা শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি ষড়যন্ত্র। দোসররা পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের নির্দেশে রাজপথে থেকেছি, আছি। তিনি স্পষ্ট বলেছেন- এই হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন হবেই। যারা এ ধরনের বর্বর হামলা চালিয়েছে, তারা যত বড়ই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার যদি দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’ সফিকুল ইসলাম পিটু বিএনপির ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘শহিদ জিয়ার আদর্শের অনুসারীরা কখনো অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথানত করেনি, করবেও না। রক্তের ঋণ রক্ত দিয়ে শোধ করা হবে না, তা হবে সুবিচার আর আন্দোলনের মধ্যদিয়ে।’
জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদার সাবু ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান মুক্ত।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। খুলনায় যুবদল নেতা মাহাবুব মোল্লা এবং চাঁদপুরে এক ইমামের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের নীরবতা উদ্বেগজনক। তারা এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। বক্তারা বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা মেনে নিতে না পেরে একটি চিহ্নিত মহল তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্তরসূরি।’
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারেক রহমান ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বরদাশত করা হবে না। আবারও এমন ঘটনা ঘটলে চুয়াডাঙ্গা থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তখন কেউ পালানোর সুযোগও পাবে না।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি জনমানুষের দল। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী যদি দুর্নীতিতে জড়ায়, দল তা কখনো প্রশ্রয় দেবে না।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক মো. মোমিনুর রহমান মোমিন, সহ-সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন হাসান কাকন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সহসভাপতি খন্দকার আরিফ, মুক্ত, যুগ্ম সম্পাদক নাইম আহমেদ, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম এ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান কনক, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসানসহ জেলা বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক