এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফলে দেখা গেছে গণফেলের ঘটনা। তবে পরীক্ষার্থীদের অনেকের সব বিষয়ে জিপিএ-৫, কারও এ গ্রেড বা এ মাইনাস থাকলেও শুধু ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট’ বা প্রাকটিক্যাল বিষয়ে ফেল থাকায় ‘ফেল’ করেছে তারা। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সচেতন মহল। এই ফলাফলের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভোকেশনাল শাখায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে মোট ৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। গত বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ওই ৮৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই ‘ফেল’ করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের মার্কশিট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- অনেকের সব বিষয়ে জিপিএ-৫, কারও এ গ্রেড বা এ মাইনাস থাকলেও শুধু ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট’ বা প্রাকটিক্যাল বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে। ফলে পুরো ফলাফলে ‘ফেল’ ধরা পড়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে নিয়মিত ৬৬ জন এবং অনিয়মিত ২০ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের অনেকের সকল বিষয়ে ভালো গ্রেড থাকলেও, শুধু প্রাকটিক্যালে ফেল দেখানো হয়েছে। অথচ তারা ২২ জুনের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্রাকটিক্যাল খাতা জমা দিয়েছে। তাদের দাবি, সময়মতো ফি ও খাতা জমা দেওয়ার পরও এমন ফল কেন হলো, তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারছে না। তারা আরও জানায়, পরিবারে তারা চরম চাপে রয়েছে। মা-বাবারা ফলাফল বিশ্বাস করছেন না, বরং সন্তানদেরই দোষ দিচ্ছেন। এ কারণে মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়েছে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলে- ‘আমরা খাতা ও ফি সময়মতো জমা দিয়েছি, তাহলে আমাদের ফেল দেখানো হলো কেন? এর দায়ভার শিক্ষকের না বোর্ডের? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ এ বিষয়ে হাসাদাহ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বোর্ডে জানানো হয়েছে। আশা করছি রোববারের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।’
জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেই আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এখনো নিশ্চিত না-ওইসব শিক্ষার্থীর প্রাকটিক্যালে ফেল এসেছে, নাকি নম্বর এন্ট্রির কোনো ভুল হয়েছে। রোববার বোর্ড থেকে জানালে বোঝা যাবে। যদি নম্বর এন্ট্রি না হয়ে থাকে, তবে তা সংশোধন করে ফল প্রকাশ করা হবে। তবে প্রাকটিক্যালে সত্যিই ফেল হয়ে থাকলে ফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
এদিকে, ভালো ফলাফল করেও গণফেলের ঘটনাটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো পরিবারের মানসিক ও সামাজিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে তুলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের শিক্ষাবিষয়ক অনাস্থা দেখা দিতে পারে-মন্তব্য করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
প্রধান সম্পাদক