চুয়াডাঙ্গায় ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ’। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস জমিতে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ’ স্থাপন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই স্তম্ভ কেবল পাথর আর কংক্রিটের স্থাপনা নয়, এটি হবে ইতিহাস ধারণকারী এক আলোকবর্তিকা। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে জানবে শহিদদের আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা।’
তিনি জানান, শহরের মধ্যে যেকোনো সরকারি খাস জমিকে প্রাধান্য দিয়ে এমন স্থানে এটি স্থাপন করতে হবে, যাতে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং জনগণের দৃষ্টিগোচর হয়। সর্বসম্মতিক্রমে চুয়াডাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় বড়বাজার হাসান চত্বরের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভের পাশেই নতুন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা সময়সীমা নির্ধারণ করেছি। এটি হবে শহিদদের স্মরণে আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি পদক্ষেপ।’
সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভের নকশা, কাঠামো ও নির্মাণ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই স্তম্ভে শহিদদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য লিপিবদ্ধ থাকবে।
সভায় উপস্থিত সকলে বিভিন্ন বিকল্প স্থান আলোচনার পর সবদিক বিবেচনা করে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভের পাশেই এটি নির্মাণে একমত পোষণ করেন। বক্তারা বলেন, এই স্মৃতিস্তম্ভ গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহিদদের আত্মত্যাগের গল্প যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে-এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ মাহবুল উল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ, সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, প্রেসক্লাব সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক মানিক আকবর, শহিদ শাহারিয়ারের পিতা আবু সাঈদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন, সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক সিরাজুম মনিরা, জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী মুস্তফা কামাল কাসেমী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
নিজস্ব প্রতিবেদক