রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন

নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৭-২০২৫ ইং
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন

চুয়াডাঙ্গা জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম ও স্বচ্ছতা ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের মধ্যে জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান। তিনি জানান, স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ‘চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


জানা গেছে, ২০২৪ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ আলমডাঙ্গায় নিজ এলাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিক চালু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো তার সেই ক্লিনিকে। এ নিয়ে তখন বেশ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরও বহাল তবিয়তে তিনি পদোন্নতি পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার সিভিল সার্জনের দায়িত্বে আসেন।


সাম্প্রতিক সময়ে চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত অনেক পরীক্ষার্থীর নাম উত্তীর্ণের তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একাধিকবার কেন্দ্র ও সিট প্লান পরিবর্তন এবং শেষ মুহূর্তে পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে কেন্দ্র পরিবর্তনের তথ্য জানানো- সব মিলিয়ে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে দেখা দেয় বড় ধরনের প্রশ্ন। এতে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে তৈরি হয় ব্যাপক ক্ষোভ।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও লিখিত অভিযোগসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে।


দৈনিক সময়ের সমীকরণসহ একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও চুপ থেকেছেন সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এক সপ্তাহ ধরে সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি সাংবাদিকরা। এতে গণমাধ্যম এড়িয়ে চলার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। সচেতন মহল বলছে, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তার এমন আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং পেশাগত শিষ্টাচারবহির্ভূত।


এদিকে, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর একাধিক পরীক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ জমা দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। পাশাপাশি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে অসংখ্য মন্তব্য ও অভিযোগ উঠে আসে। তবে এতসব অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যেও জেলা সিভিল সার্জন বা তার কার্যালয়ের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেননি। মুঠোফোনে একাধিবকার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত