পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চুয়াডাঙ্গায় সংগঠিত সকল অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে সরকারি কলেজ সড়ক পেরিয়ে কবরী রোড, পৌরসভা মোড়, চৌরাস্তা মোড় প্রদক্ষিণ করে কোট মোড় দোয়েল চত্বরে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভোত্তর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পতিত সরকারের দোসররা আজও বিভিন্ন স্থানে গা-ঢাকা দিয়ে বসে আছে। তাদের দুঃশাসনের সময় ব্যবহৃত সব অবৈধ অস্ত্র এখনো তারা দখল, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করছে। প্রতি মুহূর্তে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে, রাতের আঁধারে হুলিয়া দিয়ে হয়রানি করছে। অথচ যেসব আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের একজনকেও আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় হুকুমের যন্ত্রে পরিণত করেছিল। চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু প্রশাসন ছিল নির্বিকার। এটা ছিল এক চরম নৈরাজ্য। দেশের আপামর জনগণ আন্দোলন চালিয়ে সেই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটালেও এখনো অনেকে তাদের দোসরদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই-অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। চুয়াডাঙ্গা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ জেগে উঠেছে, সময় এসেছে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকব।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন।
বক্তারা বলেন, ‘যারা প্রকাশ্যে সন্ত্রাস চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তারা আজও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ হলে এতদিনে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হতো। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি না করা হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। প্রতিবাদ করলেই গুম, মামলা, নির্যাতন-এই নীতিতেই চলেছিলো আওয়ামী লীগ। তবে এখন সময় এসেছে প্রতিরোধের। শহিদ জিয়ার সৈনিকেরা রাজপথে ছিলো আছে, থাকবে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘এই দোসরদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ প্রতি বুধবার ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে, প্রয়োজনে উপজেলা ও জেলা পরর্যায়ে আরও বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। আর কোনো ষড়যন্ত্র করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। চুয়াডাঙ্গার মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন-এ লড়াই চলবে বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক ইকরাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সাদিদ, জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদসসচিব মহলদার ইমরান রিণ্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজি, সদস্যসচিব আজিজুর রহমান আজিজুল, পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদীসহ বিএনপি’র সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক