রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় মা নার্সিং হোমে অপচিকিৎসার অভিযোগ, পরিবারের দাবি চিকিৎসায় গাফিলতি

দুই দফা অস্ত্রোপচারে জরায়ু অপসারণ, শঙ্কজনক প্রসূতিকে রেফার্ড
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৬-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় মা নার্সিং হোমে অপচিকিৎসার অভিযোগ, পরিবারের দাবি চিকিৎসায় গাফিলতি

চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতাল সড়কের বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ‘মা নার্সিং হোম’-এর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন এক প্রসূতির স্বজনরা। দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অবস্থায় ওই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ‘মা নার্সিং হোম’ ত্যাগ করে। ভুক্তভোগী প্রসূতি সুমাইয়া খাতুন (২২) আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন মা নার্সিং হোমে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন সুমাইয়া। অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. লিফা নার্সিস চৈতি। কয়েকদিন পর সুস্থ মনে হওয়ায় রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়। তবে অস্ত্রোপচারের ১০ দিন পর হঠাৎ করে সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ১৮ জুন তাঁকে আবার ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এসময় প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করেন ডা. চৈতি। পরে অবস্থার অবনতি হলে সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেন। রোগীর অবস্থা শঙ্কটাপণ্ন হওয়ায় ১৯ জুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় তার দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে জরায়ু অপসারণ করা হয়।


এদিকে, রোগীর স্বামী শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রথম অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আমরা বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করছিলাম। শুরুতে ছুটি দিলেও কিছুদিনের মধ্যে রক্তক্ষরণ শুরু হলে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণেই আমার স্ত্রীর অবস্থা আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। সঠিক চিকিৎসা পেলে আমার স্ত্রীর জরায়ু কেটে বাদ দেয়া লাগতো না। আমি ডা. চৈতি ও ডা. তন্ময়ের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’


রোগীর শাশুড়ী শরিফা খাতুন বলেন, ‘সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে আমার পুত্রবধূর জীবন এখন সংকটাপণ্ন। আমরা আগেই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে চেয়েছিলাম, তখন নিতে দেয়া হয়নি। আবার অপারেশন করেছে তারা, এখন মুমূর্ষু অবস্থায় তারা সুমাইয়াকে রাজশাহী রেফার্ড করছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই, এবং যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’


অভিযোগের বিষয়ে মা নার্সিং হোমের ম্যানেজার জামিল জানান, ‘রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কোনো গাফিলতি হয়নি। স্বজনরা না বুঝে এমন কথা বলছেন, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সবসময় সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রোগীর সেলাই কাটার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলা হলেও তারা স্থানীয়ভাবে সেলাই কাটিয়ে নেয়। এরপর থেকে সমস্যা বাড়তে থাকে।’


ক্লিনিকের মালিক শাহিদুর রহমান বলেন, ‘ডা. চৈতি ও ডা. তন্ময় রোগীর অবস্থা বুঝে স্বজনদের জানায়, এবং তাদের মতামদের ভিত্তিতেই প্রসূতির চিকিৎসা করা হয়েছে। তবুও আমরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং প্রয়োজনে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিতেও প্রস্তুত।’


প্রসূতির অবস্থা ও স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে ডা. লিফা নার্সিস চৈতি বলেন, ‘প্রথম অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সিনিয়র সার্জনের পরামর্শে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। যেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকে রোগীকে বাঁচাতে রোগীর জরায়ু অপসারণ করা হয়।’


ডা. তন্ময় জানান, ‘রক্তক্ষরণ বন্ধে রোগীকে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে রাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু অপসারণ করা হয়। এরপর দুটি পরীক্ষায় রোগীর কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়ে। শরীরে সিরাম ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ক্রিয়েটিনিন ৬.৪-এ পৌঁছায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেলে নেফ্রোলজি বিভাগে রেফার্ড করা হয়। এখন পর্যন্ত রাজশাহীর মেডিকেলে রোগীর চিকিৎসা চলছে। আশা করছি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন।’


রোগীর স্বজনদের অভিযোগে দুই চিকিৎসকের অপচিকিৎসার দাবির বিষয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোগীর জীবন বিপণ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করতে সেই সময়ের উপযুক্ত চিকিৎসা তাকে দেয়া হয়েছে। প্রথম অপারেশনের ১১ দিনের মাথায় রোগীর দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারটি আমি করেছে। রোগীর স্বজনরা চাইলে অভিযোগ করতে পারে এবং তদন্তে সঠিক ব্যাখ্যা সামনে আসবে।’


এদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত