চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে বাজারের বিআরএম প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অপারেশনের পর এক তরুণী ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার স্থানীয় ছাত্র-জনতা ক্লিনিকটিতে তালা লাগিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পেটে ব্যথা নিয়ে সরোজগঞ্জের বিআরএম হাসপাতালে ভর্তি হন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামের মিণ্টু শেখের মেয়ে ইয়াসমিন খাতুন (১৯)। চেকআপে ধরা পড়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিস। ক্লিনিকের পক্ষ থেকে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হলে একই দিন বেলা ৩টার দিকে ডা. হাসানুজ্জামান নুপুর তার অপারেশন করেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই ইয়াসমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার অনুরোধ করলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে বলে ‘বাইরে নেওয়ার দরকার নেই, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’ অথচ রাত ৩টার দিকে ইয়াসমিন মারা যান। পরদিন শুক্রবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা ও রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সরোজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে, গতকাল সোমবার স্থানীয় ছাত্র-জনতা সরোজগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে বন্ধের দাবি জানায়। পরে বিক্ষুব্ধরা ক্লিনিকটিতে তালা লাগিয়ে দেয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘এই ক্লিনিকে বারবার মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমরা চাই, এবার স্থায়ীভাবে এই ক্লিনিক বন্ধ হোক।’ মানববন্ধনকারী ছাত্র-জনতার অভিযোগ, এটাই প্রথম নয়। এই ক্লিনিকে এর আগেও এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর আসানান্দপুর গ্রামের এক কিশোরী চাঁদ মুনিও ভুল অপারেশনে মারা যান। তখনও কিছুদিন বন্ধ ছিল ক্লিনিক, কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপে আবার চালু হয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্লিনিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যানেসথেটিস্ট নেই। রোগীদের অজ্ঞান করতে অভিজ্ঞ ডাক্তার না রেখে ক্লিনিকের লোকজন নিজেরাই ইনজেকশন দেন, যা জীবনঘাতী হতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- ‘বারবার এই ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানি কেন ঘটছে? কারা এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে?’ এদিকে ক্লিনিক পরিচালক হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ