খাবারে অনিয়ম : অবশেষে রোগিরা পেল বরাদ্দকৃত খাবার
- আপলোড তারিখঃ
২০-১০-২০১৭
ইং
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনী হাসপাতাল হঠাৎ করেই পরিদর্শনে যান পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম আশরাফ ভেন্ডার। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। বিষয়টি মাথায় নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম শিশিরপাড়া কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, পৌর স্টাফ ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে হাজির হন হাসপাতালের রান্নাঘরে। সেখানে গিয়ে দেখতে পান ছয় পিস পাউরুটির যায়গায় দুই পিস, একটি ছোট ডিম, কলা রোগীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। এসময় তিনি হাসপাতালের খাবারের ঠিকাদারকে ডেকে নিয়ে সিডিউল অনুযায়ী সকালের নাস্তা সরবরাহ করান। আবারও দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাজার আনতে টালবাহানা শুরু করেন ঠিকাদার। পরে মেয়রের চাপে সকাল ১১টার দিকে ৩১ জন রোগীর জন্য বরাদ্দ বাজার রান্নাঘরে নিয়ে আসেন ঠিকাদারের লোকজন। এসময় মেয়র নিজে থেকে বরাদ্দকৃত খাবারের হিসাব নেন।
গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানান, রোগীর জন্য দু’বেলার বরাদ্দ আছে ১২ কেজি ৪০০ গ্রাম চাল সেখানে ঠিকাদারকে অনেক বলার পরেও দিয়েছেন ৯ কেজি ৭৫০ গ্রাম। পরে ওজন করে বাকি চাল বুঝে নেওয়া হয়েছে। মাংস ছিল লেয়ার মুরগির কিন্তু বহু টালবাহানা করে এনেছে ৮ কেজি ৭৫০ গ্রামের। পেঁয়াজ ১ কেজি ৫৫০ গ্রামের পরিবর্তে ১ কেজি, আলু ৩ কেজি ১০০ গ্রামের পরিবর্তে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম, তেল মসলার একই অবস্থা। তাও এটা পেয়ে রোগীরা অনেক খুশি। মেয়র বলেন, ঠিকাদার বলেছেন- আমি আর মালামাল দিতে পারবো না। আমি বললাম তাহলে দশ বছর ধরে কীভাবে রোগীদের খাবার মেরে খেয়েছেন। এরপর আমি নিজে সকাল থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত লক্ষ করেছি হাসপাতালের সকল দৃশ্য। জালিয়াতদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এই হাসপাতাল। একই ব্যক্তি বার বার স্লিপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু আজ আমি নিজে হাসপাতালে থাকায় সে কাজটি করতে পারেননি। তবে ডাক্তার, নার্স, ঝাড়ুদার সবাই খুশি, হাতেগোনা দুয়েকজন ডাক্তার ও পূর্বে থেকে থাকা দুয়েকজন আয়া বাদে। কাজিপুর গ্রামের হাকিম মিয়া বলেন, এক সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। হাসপাতাল থেকে দেওয়া খাবার খেতে পারতাম না। ছোট এক পিস মাংস বা মাছ দিতো। ডালটা পানির মতো। বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খেয়ে থাকতে হতো। আজ মেয়রের হস্তক্ষেপে অনেক ভালোমানের খাবার পেয়েছি। তিন পিস মাংস, সবজি ও ডাল পেয়ে আমরা খুশি। অনেক রোগী জানান, বাড়ি দূরে হওয়ায় সকালের খাবার আসতে দেরি হয়। হাসপাতাল থেকে যে নাস্তা রোগীদের দেওয়া হয় তা রোগীর হয় না। কিন্তু সকালের নাস্তা দুইজন করে খাওয়ার মতো ছিল।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রোগীদের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার ফিরোজ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দির্ঘ বছর ধরে এখানে খাবারের টেন্ডার করা হয়নি। তাই আগের দামে খাবার দেওয়া হয়। তাই আমি সরকারী যেমন টাকা পায় তেমন খাবার দিই। এর বেশি আর কিছু নয়। এভাবে বললে আমার পক্ষে খাবার দেওয়া সম্ভব নয়।
কমেন্ট বক্স