দাবদাহের পর চুয়াডাঙ্গায় সারাদিন স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে পরপর তিনদিন। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এলেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন দুর্ভোগ। শহরের রাস্তায় পানি জমে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, আর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। আবহাওয়া অফিস বলছে, এখনো পুরোপুরি কাটেনি মৌসুমি বায়ুর প্রভাব- আজ সারাদিনও চলতে পারে দফায় দফায় বৃষ্টি।
এদিকে, গত বুধবার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এসময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবারও জেলার আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিনের কিছু সময় সূর্যের মুখ দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। এর আগে গত মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের ছয় বিভাগে ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এমন পূর্বাভাসে স্বস্তি ফিরে আসে দাবদাহে হাঁসফাঁস করা মানুষের মধ্যে। যখন দু’সপ্তাহের প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল জনজীবন।
এসময় বৃষ্টিতে শীতলতা এলেও জনজীবনে যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। শহরের রিকশাচালক হানিফ আলী বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ায় গরমটা একটু কমেছে ঠিকই, কিন্তু আয় রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু রাস্তায় মানুষ কম। দিন শেষে ভাড়ার টাকা উঠবে কি না, সেটাই চিন্তা।’
চুয়াডাঙ্গা নতুন বাজার এলাকার গৃহিণী আক্তার জাহান বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা দায় হয়েছিল। এখন বৃষ্টি হচ্ছে, একটু স্বস্তি পাচ্ছি। তবে একটানা বৃষ্টির কারণে বাজার করতে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় কাদা আর পানি জমে গেছে, শিশুদের নিয়েও চিন্তা হচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের উপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা বিরাজ করছে। এর প্রভাব এখনো কাটেনি। শুক্রবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে দিনের বিভিন্ন সময় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক