সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এ কেমন পৃথিবী, এ কেমন বিচার?

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৬-২০২৫ ইং
এ কেমন পৃথিবী, এ কেমন বিচার?

স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন কেবল অমানবিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি। অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে-পরাশক্তিরা যুদ্ধের আগে বলে, কোনো দেশ যেন পরমাণু অস্ত্র না পায়। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে লক্ষ্য হয়ে ওঠে সেই দেশের সরকার বদল। দ্বিমুখী এই নীতির মধ্যে ন্যায়বিচার কোথায়? যাদের হাতে শত শত পরমাণু বোমা, তারা চায় না অন্য কেউ এই ক্ষমতার ধারেকাছেও যাক। অথচ নিজেরা প্রতিনিয়ত অস্ত্র তৈরি ও মজুত করছে। এ কেমন বিচার? আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই বিশ্বে এমন বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আর কতদিন টিকবে?

স্বাধীনতার পর ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার পেয়েছিল-প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০টি কৌশলগত ওয়ারহেড। কিন্তু ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নিরাপত্তার আশ্বাসে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সব অস্ত্র রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। যদি সে চাপে নিরস্ত্রীকরণ না করত, তাহলে হয়তো আজকের করুণ পরিণতির শিকার হতো না। বর্তমানে বিশ্বের হাতে আছে প্রায় ১২ হাজার ১০০টি পরমাণু বোমা, যার অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দখলে। পারমাণবিক শক্তিধর বাকি দেশগুলো হলো-যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল ও উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে, ইরানসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।

যদি যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হয় ‘রিজিম চেঞ্জ’, তবে সেটি ভয়ানক প্রবণতা। ইরানের শাহ, কিংবা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট মারকোস-দুজনেই একসময় পশ্চিমা মিত্র ছিলেন, পরে হয়ে যান অপছন্দের। একসময় মিডিয়ায় ফলাও করে তাদের দুর্নীতির খবর ছাপা হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে, গণমাধ্যম কি সত্য বলছে, না কোনো লক্ষ্য পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে? এমবেডেড জার্নালিজমের প্রসঙ্গও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নির্ধারণের অধিকার কেবল সেই দেশের জনগণের, অন্য কোনো রাষ্ট্রের নয়। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও পরমাণু অস্ত্র থাকার মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ইরাকে হামলা হয়েছিল, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়। গাজায় আজ চলছে নির্মম গণহত্যা, কিন্তু বিশ্ব বিবেক নির্বাক। এ কি তবে শক্তিরই শাসন? ‘মাইট ইজ রাইট’-এর জয়?

যে দেশ নিজেই বারবার বলছে, তারা পারমাণবিক বোমা চায় না-তাদেরও কি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার থাকবে না? জ্বালানি উৎপাদন ও বিজ্ঞান গবেষণায় এই শক্তি সবার জন্যই প্রয়োজনীয়। দ্বিমুখীনীতির অবসান না হলে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব কখনোই গড়া যাবে না। 




কমেন্ট বক্স
notebook

মুজিবনগরে ইয়া রসুলুল্লাহ (স.) হাফিজিয়া মাদ্রাসায়