চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ ও ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করো’-এই দাবিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের সরকারি কলেজ, কবরী রোড, পৌরসভা মোড়, শহিদ হাসসান চত্বর হয়ে কোর্ট মোড়ের দোয়েল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের নামে যারা দুঃশাসন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তাদের বিচার আজ সময়ের দাবি। চুয়াডাঙ্গায় এই সংগঠনের ছত্রছায়ায় যারা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে, তাদের গ্রেপ্তার না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদ চায় না। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। প্রতিটি নেতা-কর্মীকে মাঠে থাকতে হবে, যেন এই অপশাসনের অবসান ত্বরান্বিত হয়।’
জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পল্টু, যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মালিক।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, মৎস্যজীবী দলের সাবেক আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেবুব আহমেদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান এবং জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বুদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান।
সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতা-কর্মী নানাবিধ মামলার পলাতক আসামি, তাদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিচ্ছি। তা না হলে জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রাজপথে নামবে বিএনপি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দমন-পীড়নের জবাব আমরা দেব।’
নিজস্ব প্রতিবেদক