বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও জনপ্রিয় সংগঠক এমদাদুল হক ডাবু আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। গতকাল রোববার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এমদাদুল হক ডাবু। কিছুদিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আজ সোমবার সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল মালেক মিয়ার মেজো ছেলে এমদাদুল হক ডাবু বিএনপির রাজনীতির এক পরিচ্ছন্ন ও আদর্শিক নাম। তাঁর রাজনীতির শুরু ছাত্রদল দিয়ে। পরে তিনি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য এবং সর্বশেষ আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। একইসঙ্গে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, তাঁর পথচলা ছিল আদর্শিক ও যুক্তিনিষ্ঠ। নিজের শালীন উচ্চারণ, সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান তাঁকে আলাদা করে তুলেছিলো রাজনীতিতে। শব্দের শক্তি, চিন্তার স্থিরতা এবং যুক্তির প্রজ্ঞায় তিনি ছিলেন আলমডাঙ্গা বিএনপির নির্ভরতার নাম। সামাজিক জীবনেও তিনি পরিচিত ছিলেন মার্জিত, ভদ্র ও নম্র একজন মানুষ হিসেবে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন আদর্শবান, দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ ছিলেন। স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এক বন্ধনময় পরিবেশ। তাঁর বড় ছেলে মোহাইমেনুল হক আবির, মেঝ ছেলে মোমেনুল হক অংকন এবং ছোট মেয়ে নুসরাত মেহজাবীন অথই-তিন সন্তানই শিক্ষিত ও সমাজসচেতন।
তাঁর মৃত্যুতে কালিদাসপুরসহ পুরো আলমডাঙ্গাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক সহকর্মী, সাধারণ মানুষ, যুবদল, ছাত্রদল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ভেঙে পড়েছেন শোকে। আলমডাঙ্গা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, এমদাদুল হক ডাবু ছিলেন রাজনীতির এক আদর্শিক বাতিঘর, যার অভাব সহজে পূরণ হবার নয়।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ এমদাদুল হক ডাবুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তারা বলেন, ‘এমদাদুল হক ডাবু ছিলেন বিএনপির একজন আদর্শিক সৈনিক, সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন দক্ষ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল সংগঠককে হারালাম। এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
এছাড়াও, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য এমদাদুল হক ডাবুর মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদল গভীর শোক প্রকাশ করছে। জেলা ছাত্রদলের এক শোকবার্তায় বলা হয়, এমদাদুল হক ডাবু ছিলেন জাতীয়তাবাদী পরিবারের অকৃত্রিম বন্ধু। দলের নিবেদিত অন্তপ্রাণ মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। জেলা ছাত্রদল শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
আলমডাঙ্গা অফিস