ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে একজন দরিদ্র কৃষকের আবাদি জমি জোরপূর্বক দখল করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কাজী নজরুল ইসলাম (৬৮) জানান, ফতেপুর গ্রামের ১০৫ নম্বর মৌজার সাবেক ৪৮৭ দাগে ৩৩ শতক জমি তিনি ও তাঁর ভাই আজিজ কাজী (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার পিতা জীবিত থাকাকালে গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে এই জমি ক্রয় করে আমাদের নামে ১৯৭৫ সালের ৬ মার্চ রেজিস্ট্রি করে দেন (দলিল নম্বর ৩৭৮৮)। সেই থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা জমিটি চাষ করে আসছি।’
কাজী নজরুল অভিযোগ করেন, ‘গত ৮ জুন একই গ্রামের মৃত তবিবর খানের ছেলে গোলাম ফারুক খান তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ফসলি জমিতে ঢুকে ট্রাক্টর দিয়ে সব ফসল নষ্ট করে দেন। আমি বাধা দিতে গেলে ফারুক তাদের ট্রাক্টরের নিচে আমাকে চাপা দিতে নির্দেশ দেন।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই বিল্লাল হোসেন গত বুধবার (১১ জুন) ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন।
এসআই বিল্লাল বলেন, ‘আমি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মীমাংসার জন্য বসার আহ্বান জানাই, তবে কোনো পক্ষই সম্মত হয়নি। জমিটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।’ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাজী নজরুল দীর্ঘদিন ধরেই জমিটি চাষ করছিলেন এবং জমিটি তার দখলেই ছিল।
একইসঙ্গে আরও একটি অভিযোগ উঠেছে, মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর ভাতিজা রিপন, যিনি একজন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, তার চাষের জমি থেকেও নাকি তাঁকে উচ্ছেদ করে জমি দখল করে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম ফারুক খান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
প্রতিবেদক মহেশপুর