রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ চুয়াডাঙ্গাবাসী

শহরে জনসমাগম কম, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৬-২০২৫ ইং
ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ চুয়াডাঙ্গাবাসী

চুয়াডাঙ্গায় ভ্যাপসা গরমে নাকাল জনজীবন। দিনের পর দিন ক্রমাগত উষ্ণতা বাড়তে থাকায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আপাতত তাপদাহ থেকে মুক্তি মিলছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক, ভ্যানে ফলমূল বিক্রেতা ও দিনমজুররা। গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৫ শতাংশ। একইদিন দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৫ ডিগ্রি, আর আর্দ্রতা ৬১ শতাংশ। গতকাল শুক্রবারও পরিস্থিতি ছিল একইরকম। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৫৯ শতাংশ। বেলা ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬.৬ ডিগ্রি, আর্দ্রতা নামে ৫৩ শতাংশে। 


এদিকে, সকালের পর থেকে শহরের রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমতে শুরু করে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ক্রেতার দেখা পাওয়া যায়নি। জনসমাগমে অভ্যস্ত এলাকাগুলোও রীতিমতো শুনশান হয়ে পড়ে। শহরের একাডেমি মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। ঘাম ভেজা গামছা কাঁধে ফেলে তিনি বলেন, ‘সকালে একটু চলাচল থাকে, কিন্তু দুপুর থেকে রাস্তায় লোকই নাই। গরমে এত কষ্ট হয় যে, মনে হয় মাথা ঘুরে পড়ব। যাত্রীও নাই, আয়ও নাই। উপায় না পেয়ে রোদ থেকে বাঁচতে রিকশায় ছাতা লাগিয়েছি। কিন্তু তাতে রোদ থেকে রক্ষা পেলেও ভ্যাপসা গরম থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না।’
একই জায়গায় ডাব বিক্রি করছিলেন মিরাজুল ইসলাম। তিনিও বললেন, ‘এই গরমে মানুষ চায় ঠান্ডা কিছু খেতে। কিন্তু কেউ বাহিরেই আসে না, তাই বিক্রিও হয় না। একটা-দুটা ডাব বিক্রি করে বেলা পার করছি।’ জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আর্দ্রতা বেশি থাকায় তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আকাশে মেঘ থাকলেও আপাতত দুই একদিন বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।


এদিকে, এই সময়ে বেশি করে পানি পান করা, দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলা এবং ঠান্ডা-শীতল খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে, বলছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন। তবে, শহরজুড়ে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে স্পষ্ট-চুয়াডাঙ্গায় গরমের প্রকোপ শুধু থার্মোমিটারে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত