মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
এক দিনের ঈদ পুনর্মিলনী বন্ধুত্বের বাঁধনে স্মরণীয় করে রাখলেন ব্যাচ সাথীরা

বন্ধু টানেই ফেরা- এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের মিলনমেলা

চুয়াডাঙ্গায় র‌্যালি, গান, কবিতা আর পুরস্কারে ভরা দিনজুড়ে সাহিদুজ্জামান টরিকের উচ্ছ্বাসময় উপস্থিতি
  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৬-২০২৫ ইং
বন্ধু টানেই ফেরা- এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচের মিলনমেলা

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় মুক্তমঞ্চে ‘এসো মিলি বন্ধুর টানে’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হলো এসএসসি ১৯৮৪ বন্ধু ব্যাচের দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্যদিয়ে শুরু হয় মিলনমেলা। সরকারি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে গণপূর্ত বিভাগের সামনে ঘুরে র‌্যালিটি আবার কলেজ চত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর জমে ওঠে গল্প, গান, কবিতা আর আড্ডার এক বর্ণিল পরিসর। চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী বন্ধুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক বিরল মিলনমেলায়। দিনজুড়ে র‌্যালি থেকে সাংস্কৃতিক পর্ব পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন জেলার কৃতী সন্তান বিশ্বের প্রবাসী বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) প্রেসিডেন্ট ও হোটেল সাহিদ প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক।


অনুষ্ঠানে বন্ধু-বান্ধবীদের নিজের অনুভূতি জানিয়ে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আজকের এই দিনটি শুধুই আনন্দের নয়, এটি আমাদের স্কুল থেকে কলেজ জীবনের সেই নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ। এই বন্ধন যতবার ছোঁয়া লাগে, মনে হয় আমরা যেন আবার কলেজ মাঠে ফিরেছি, হোস্টেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি। জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও এমন পুনর্মিলনী আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়। আমি বিশ্বাস করি, এই সম্পর্কগুলো শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই।’


দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মাসুদ আরিফ মানুন, আনোয়ার হোসেন ও মামুন। কবিতা আবৃতি করেন রুনু, গান গেয়ে শোনান রোকন, কদম ও আকবর আলী। আরও আলোচনা করেন মামুন, মজিবর, ফারজানা কেতকী ও রুনু। পরে দুপুর গড়ালে খাবারে পরিবেশিত হয় বাহারি পদ। খাওয়া শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর বন্ধুদের ভিন্ন আয়োজনের লটারি (র‌্যাফেল ড্র) অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাহিদুজ্জামান টরিক। ড্র পরিচালনার পুরো সময়জুড়েই তিনি ছিলেন মঞ্চে। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে উপস্থিত সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের এক অনন্য আবেশ।


পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকের এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আবারও মনে করিয়ে দিলো- আমরা কতটা ভাগ্যবান ছিলাম এমন একটি ব্যাচের অংশ হতে পেরে। বন্ধুত্বের এই উষ্ণতা, এই হৃদ্যতা, এই ভালোবাসা আমাদের জীবনের সেরা উপহার। আমি সবসময় এমন আয়োজনের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আজকের মতো সুন্দর দিন যেন বারবার ফিরে আসে। আমাদের বন্ধন অটুট থাকুক সবসময়।’


বন্ধুদের সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন আয়োজন যেন বারবার হয়। আমরা যারা বিভিন্ন শহরে, দেশে বা বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি, তারা যেন অন্তত বছরে একবার হলেও একত্রিত হতে পারি। আজকের এই আয়োজনে যেভাবে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছে, তাতে বোঝা যায়-বন্ধুত্ব এখনো জীবন্ত, স্পন্দনশীল। আমি মনে করি, আমাদের এই বন্ধুত্বের শক্তি পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’


আয়োজক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টরিক বলেন, ‘যারা নিরলস পরিশ্রম করে আজকের এই দিনটিকে সফল করেছে, সীমিত সময় ও সাধ্যের মধ্যে যে ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং একতা তারা দেখিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই আয়োজনের পেছনের প্রতিটি মানুষের চেষ্টা এবং অবদানের কথা মনে রাখবে আমাদের ব্যাচের প্রতিটি সদস্য।’


এদিকে, দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিকেল পর্বে চুয়াডাঙ্গার জনপ্রিয় শিল্পীরা করবী ও শান্তর নেতৃত্বে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গান গেয়ে রঙ ছড়ান মঞ্চে। এসময় ১৯৮৪ বন্ধুরাও গান গেয়ে, নেচে, হাততালি দিয়ে মুখর করে তোলেন অনুষ্ঠানপ্রাঙ্গণ। সবশেষে বন্ধুদের সঙ্গে নাচে তাল মেলান সাহিদুজ্জামান টরিক নিজেও। এসময় দৃশ্যমান হয় বন্ধুত্ব আর উল্লাসের উৎসবজুড়ে ছিল কেবল প্রাণের টান। এছাড়া, অনুষ্ঠানস্থল থেকেই সাহিদুজ্জামান টরিক ঘোষণা দেন, আগামী ২০ ডিসেম্বর শনিবার, শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজারের সাহিদ গার্ডেনে দিনব্যাপী আরও বৃহৎ এক মিলনমেলার। সকল বন্ধুকে সেই দিনটি অগ্রিম ছুটি রেখে প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। জানান, এবারের মিলনমেলায় ১৯৮৪ ব্যাচের দূর-দূরান্তের বন্ধুরাও উপস্থিত থাকবেন। এই ঘোষণা শুনে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাসের এক নতুন তরঙ্গ। বন্ধুত্বের বাঁধন হয়ে ওঠে আরও দৃঢ়, আরও উজ্জ্বল।


দিনব্যাপী আয়োজনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন বন্ধু ব্যাচের রুনু। তিনি বলেন, ‘দিনটি আমাদের জীবনের এক সুন্দর মুহূর্ত হয়ে থাকবে। অনেক বছর পর একসঙ্গে এতজন বন্ধু, সেই স্কুল জীবনের স্মৃতি, সেই আড্ডা-সবকিছুই যেন আবার নতুন করে ফিরে পেলাম। এই মিলনমেলায় অংশ নিতে না পারলে অনেক কিছু থেকে বাদ পড়ে যেতাম। কারণ আমাদের সবার জীবন এখন ব্যস্ততায় ভরা, তবুও এতদূর থেকেও সবাই যেভাবে ছুটে এসেছে, তা আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতা প্রমাণ করে। সাহিদুজ্জামান টরিক ভাইয়ের নেতৃত্ব এবং আন্তরিক অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনে প্রাণ এনে দিয়েছে। এ রকম আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতে চাই, কারণ এই বন্ধুত্বই আমাদের জীবনের বড় সম্পদ।’


বন্ধু ব্যাচের রোকন বলেন, ‘র‌্যালির শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল আমরা যেন আবার স্কুলের মাঠে ফিরেছি। পুরনো সেই মুখগুলো, সেই হাসি, গল্প আর চোখে-মুখে খুশির ঝলক-সবকিছুই প্রাণবন্ত করে তুলেছে দিনটিকে। বহু বছর পর প্রিয় বন্ধুদের দেখে বুকটা ভরে উঠেছে। এই আয়োজন শুধু মিলনমেলাই নয়, এটি আমাদের হৃদয়ের বন্ধনকে আরও মজবুত করেছে। বন্ধু টরিকের আন্তরিকতা ও সম্পৃক্ততা সবাইকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি শুধু একজন সংগঠক নন, আমাদের এই বন্ধনকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম শক্তি। আমরা আশা করি, এমন আয়োজন প্রতি বছর হবে এবং বন্ধুত্বের এই আলো নিভে যাবে না কখনো।’ সমগ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মিজান, আনন্দ, মকসু, শিল্টু, আকবর, মানু, মাসুম কামাল, পারভীন লাইলা, তানজীলা মিলি ও মাহমুদা। এছাড়াও শতাধিক বন্ধুরা এই আয়োজনে দিনব্যাপী অংশ নেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনায় ঈদ কেনাকাটায় প্রাণচাঞ্চল্য, জমজমাট মার্কেটগুলো