চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন বলেছেন, ‘বিপদ-আপদ, মুসিবতের সময় সবসময় আমাকে পাশে পাবেন।’ গতকাল বুধবার দর্শনা ডিএস মাদরাসার হলরুমে দর্শনা থানা জামায়াত আয়োজিত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দর্শনা থানা সাংগঠনিক আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, থানা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান এবং দর্শনা পৌর জামায়াতের আমির সাহিকুর রহমান অপু।
সুধি সমাবেশে বক্তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে ইসলামী সংগঠনগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন আরোও বলেন, ‘জামায়াত শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায় এমন একটি আদর্শিক সংগঠন।’
সুধি সমাবেশ শেষে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা আমির রুহুল আমিন বিকেল ৩টায় জীবননগর কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জন ব্যবসায়ীর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জামায়াতে ইসলামীর জীবননগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে নগদ অর্থ সহায়তা পান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ।
এরপর জীবননগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগ বিভিন্ন প্রকার এক হাজার ফলের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল চারটার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ফলের চারা বিতরণ করেন জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামী ৫০ হাজার গাছের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জীবননগর উপজেলা ও পৌর জামায়াত এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করবে। মূলত এই বিতরণ করার জন্যই আমি আপনাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন, জামায়াতে ইসলামী তথাকথিত রাজনৈতিক প্রোগাম নিয়েই শুধু মাঠে থাকে না। মানুষের কীভাবে কল্যাণ হবে, সেটা বিবেচনা করেই জামায়াত কর্মসূচি দেয়।’
রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। আষাঢ় মাসে বৃষ্টি নেই, শীতকালে শীত নেই, আবার গরমে প্রচণ্ড গরম। এই অবস্থায় এই পরিবেশকে বাসযোগ্য করার জন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগানো উচিত। যদি আমরা গাছ বেশি বেশি লাগাই, নিজের আঙিনায় হোক, নিজের জমিতেই হোক, আবাসস্থলেই হোক, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে যেতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গাছ কাটব, এতে কোনো সমস্যা নাই, তবে একটি গাছ কাটলে আমি ১০টি গাছ লাগাবো। আমি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জেলাটি বসবাসযোগ্য করে তুলব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নীতিকে সামনে নিয়ে, এই পরিবেশটাকে রক্ষা করার জন্য, আজকে গাছের চারা বিতরণ করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা তালিমুল কুরআন শিক্ষা বিভাগের সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন, জেলা আমিন সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ইসরাইল হোসেন, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জেলা পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আমিরপপপ মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, জীবননগর উপজেলার সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন, পৌর সভাপতি আরিফ হোসেন, জামায়াত নেতা হাফেজ হাসানুজ্জামান প্রমুখ।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত সূধী সমাবেশেও প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির অ্যাড. রুহুল আমিন। গতকাল বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিলাল হোসাইন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মো. গোলাম রসুল।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামান, জেলা সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জেলা ইউনিট সদস্য ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রউফ, সদর উপজেলার নায়েবে আমির আব্দুল জব্বার, সহকারী সেক্রেটারি শাহেন উজ্জামান ও মাওলানা সাজিবুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক আশির উদ্দীন এবং শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা খবির উদ্দীন, মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের আমির মাওলানা মহসিন আলী, পদ্মবিলা ইউনিয়নের আমির আসমান আলী এবং মোমিনপুর ইউনিয়নের আমির বজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সুধী সমাবেশে বক্তারা ইসলামী রাজনীতির গুরুত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি রুহুল আমিন বলেন, ‘এদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা চাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-যেখানে ইসলামী আদর্শে পরিচালিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে। আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় আমাদের সেই পথে এগিয়ে নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’ সমাবেশে স্থানীয় শতাধিক জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তৃতার ফাঁকে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় অনুষ্ঠানস্থল।
সমীকরণ প্রতিবেদক