চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরে রাস্তায় বাঁশ ফেলে পিতা-পুত্রকে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে দু’জনই গুরুতর জখম হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কুতুবপুর ইউনিয়নের মোস্তপুর ইটভাটা সংলগ্ন মাঠের ভেতর এই ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন-কুতুবপুর উত্তরপাড়ার মৃত শাহাদত মণ্ডলের ছেলে শফিউদ্দিন (৫৫) ও তার ছেলে জিয়াউর রহমান (২২)। তারা কাপড় ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছিট কাপড় ও তৈরি পোশাক বিক্রি করেন তারা। ঘটনার সময় দশমাইল বাজার থেকে বিক্রি শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা-ছেলে। পথিমধ্যে কুতুবপুরের মস্তপুর মাঠে পৌঁছালে ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত ভ্যানের সামনে বাঁশ ফেলে দেয়। এতে ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পিছলে যায়। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমেই তাদের মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিয়াউরের হাতে কোপ মারে এবং শফিউদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করে।
ভুক্তভোগী শফিউদ্দিন বলেন, ‘আমি ভ্যানে বসে পেছনে ছিলাম, আর আমার ছেলে চালাচ্ছিলো। সব টাকা ছিল আমার কাছে। ওরা মুখে কাপড় বেঁধে ফেলে, তারপর আমার ছেলের হাতে কোপ দেয়। আমি অনুনয় করে বলি-টাকা নিয়ে যাও, কিন্তু মেরো না। ওরা কোনো কথা না শুনে আমার মাজা, হাত ও শরীরের নানা স্থানে আঘাত করে। পরে আমার সঙ্গে থাকা ৮০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।’ খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখম রয়েছে। তাকে ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তার বাবা শফিউদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা জখম নয়, তবে তাকেও ভর্তি রাখা হয়েছে।’
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হোসেন আলী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিনজন রাস্তা অবরোধ করে ভ্যান থামিয়ে হামলা চালায়। একজনের হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে জখম করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তসহ অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক