রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা শহরের ড্রেনগুলো যেন মরণফাঁদ, প্রতিনিয়ত ড্রেনে পড়ছে মানুষ ও পশু-পাখি

স্লাব না থাকায় বিপণ্ন জনজীবন, সংস্কারে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ
  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৫-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা শহরের ড্রেনগুলো যেন মরণফাঁদ, প্রতিনিয়ত ড্রেনে পড়ছে মানুষ ও পশু-পাখি

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল। সড়কের পাশে ফুটপাতের পাকা ড্রেনের ওপর স্লাব (ঢাকনা) না থাকায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেক নারী-পুরুষ ও শিশু। অনেক এলাকায় ড্রেনের ওপর স্লাব না থাকায় এগুলো ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় দিন দিন অবস্থা আরও বেহাল হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। পৌরবাসী দ্রুত ড্রেনগুলো সংস্কার ও পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। আর পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্রেনের ওপর স্লাব দেয়ার জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। রাজস্ব খাতেও এ জন্য আলাদা টাকা নেই। তাই প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রেন মেরামতের প্রস্তাব করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বাজেট পেলে দ্রুতই শুরু হবে কাজ।


সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের সিনেমা হলপাড়া, গুলশান পাড়া, ঈদগাহ পাড়া, সরকারি কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড, মাঝের পাড়া, পৌরসভা পাড়া, রেলপাড়া, মুক্তিপাড়া, সাদেক আলী মল্লিক পাড়াসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে নেই ড্রেনের ওপর স্লাব। এর ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীরা ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে সবসময় ভয়ে থাকেন কখন কে পড়ে যায় ড্রেনে। ইতোমধ্যে এসব খোলা ড্রেনে পালিত পশুসহ বেওয়ারিশ কুকুর ও অন্যান্য প্রাণির মাঝে মাঝে খোলা ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় ফুটপাত ব্যবহারকারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দিনে সাবধানতা অবলম্বন করে চলাচল করা গেলেও রাতের অন্ধকারে ঢাকনাবিহীন ড্রেনে অনেকের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। মানুষের চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে পৌরসভার এই ঢাকনাবিহীন ড্রেনগুলো। ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ড্রেনগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানে ড্রেনগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এগুলো আবার মশা-মাছির ‘নিরাপদ’ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী নাগরিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা থাকলেও পর্যাপ্ত সংস্কার কাজ হচ্ছে না।


চুয়াডাঙ্গা শহরের ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা মিজান আলী বলেন, ‘ড্রেন খোলা থাকায় কত কিছু পড়ে যায়, গরু-ছাগল, মুরগিও পড়ে যায়। কিছুদিন আগে একটা গরু পড়ে পা ভেঙে গেছে, সেদিন একটা ছাগল পড়লো, মানুষ তো পড়তেই আছে। সেদিন একটা ছোট বাঁচ্চা পড়ে গেল। নানা সমস্যা, ড্রেন ঠিক না করলে এমন সমস্যা হতেই থাকবে।’ কলেজ শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে কিছু কিছু স্থানে ড্রেনগুলোতে স্লাব নেই। এগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। অনেক সময় স্লাব না থাকার কারণে গবাদি পশু, কুকুর, বিড়াল পড়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমার বিড়ালটাও ড্রেনে স্লাব না থাকার কারণে পড়ে গেছে। পরে আর খুঁজেই পাইনি। মাঝে মাঝে মানুষ পড়ে যাওয়ার কথাও শুনি।’



অটোচালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে ড্রেনগুলো যেভাবে থাকার দরকার, সেভাবে নেই। জায়গায় জায়গায় ভাঙা। আবার অনেক জায়গাতে ঢাকনা নেই। শহরের ভেতরে অধিকাংশ ড্রেনের স্লাব নেই। বিশেষ করে গুলশান পাড়া, হাসপাতাল রোডের সাইডের আশেপাশে এলাকাগুলাতে ড্রেন ভাঙা থাকার ফলে গাড়ি চালাতে অসুবিধা হয়। বর্ষাকালে ভাঙা ড্রেনগুলাতে পানি ভরে উপচে ওঠে। ফলে অটো চালানোর সময় বোঝা যায় না কোথায় ভাঙা আছে, আর কোথায় নেই। অনেক সময় ইজিবাইক ভাঙা ড্রেনে পড়ে যায়। অনেক সময় সামনে থেকে গাড়ি আসলে ড্রেন ভাঙা থাকার কারণে সাইড দিতে সমস্যা হয়। আবার একটা গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে চাকা ড্রেনের ভেতর পড়ে যায়। তখন একটা বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়তে হয় অটোটা তোলার জন্য। তাই পৌরসভার উচিত ড্রেনগুলোর দিকে নজর দেওয়া।’ ভ্যানচালক সিরাজ আলী বলেন, ‘ড্রেনগুলো ফাঁকা থাকার কারণে গরু-ছাগল পড়ে যায়। ভ্যান গাড়ি পড়ে যায়। বৃষ্টির সময় পানি উপচে পড়ে, আরও অনেক সমস্যা হয়। আমার মতে ড্রেনগুলো ঠিক করে দিলে ভালো হয়।’


এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাঙ্গা স্লাবগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত মেরামত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাজেট এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, ‘বর্তমানে পৌরসভায় যে ড্রেনগুলো নির্মাণ হচ্ছে, এগুলাতে আমরা স্লাবসহ স্টিমেট দিয়েছি। কিন্তু পূর্বে যে ড্রেনগুলো নির্মাণ হয়েছে, প্রজেক্ট অফিস ড্রেনের ওপর স্লাব দিতে নিরুউৎসাহিত করে। কারণ স্লাব দিলে ড্রেনগুলো আটকে যায়। আটকে গেলে ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। ড্রেন জাম হয়ে যায়। স্লাববিহীন ড্রেনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, গরু-ছাগল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আমরা ড্রেনের ওপর স্লাব দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমরা চেষ্টা করি পুরাতন ড্রেনের ওপর স্লাব দেওয়ার। প্রজেক্ট অফিস পুরাতন ড্রেনের ওপর স্লাব দেওয়ার বরাদ্দ দেয় না। এডিবির বরাদ্দ থেকে আমরা চেষ্টা করি ড্রেনের ওপর স্লাব দেওয়ার। যেমন ডিসি বাংলো থেকে টিএনটি পর্যন্ত আগে স্লাব ছিল না। বর্তমানে আমরা স্লাব দিয়েছি, কারণ গরু-ছাগল পড়ে যেতো।’


চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের পৌর এলাকার ভেতরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড রয়েছে। সে সমস্ত ওয়ার্ডেও স্লাবগুলো ভেঙে গিয়েছে। এই ভাঙ্গা স্লাবগুলো আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত মেরামত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের রাজস্ব বাজেট সীমিত হওয়ার কারণে আমরা এই স্লাবগুলো করতে পারছি না। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দগুলো আমরা আনার চেষ্টা করছি। সেটা এসে গেলেই আমরা ড্রেনের মেরামত শুরু করব এবং যে সমস্ত এলাকায় ড্রেনের স্লাব পূর্বে ছিল না, সেখানেও স্লাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রকল্পে প্রস্তাব রেখেছি। এটা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি, অনুমোদন হয়ে গেলে আমরা স্লাব দিয়ে দেব।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত