রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রেমের টানে ইন্দোনেশিয়ান তরুণী জিমনিয়া এলেন আলমডাঙ্গায়

সংস্কৃতি, জাতি ও ভাষার সীমানা পেরিয়ে বিবাহ বন্ধন
  • আপলোড তারিখঃ ২৭-০৫-২০২৫ ইং
প্রেমের টানে ইন্দোনেশিয়ান তরুণী জিমনিয়া এলেন আলমডাঙ্গায়

ভালোবাসা যদি হয় খাঁটি, তবে তা কোনো সীমানা মানে না। ভাষা, জাতি বা দেশও বাঁধা নয়। এমনই এক ভালোবাসার নজির স্থাপন করেছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের অনুপনগর নওদাপাড়া গ্রামের যুবক শোভন মিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার তরুণী জিমনিয়া। দীর্ঘ প্রেমের পর একে অপরের হাত ধরে জীবন শুরু করলেন তারা। এই আন্তর্জাতিক প্রেমকাহিনী বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং হয়ে উঠেছে আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।


ঘটনার সূচনা প্রায় ১৩ বছর আগে। অনুপনগর নওদাপাড়ার জীবিকার তাগিদে আনারুল ইসলামের ছেলে শোভন মিয়া (৩০) পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন তিনি। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার তরুণী জিমনিয়া সিঙ্গাপুরেই একটি গার্মেন্টস দোকানে সেলস পারসন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দৈনন্দিন যাতায়াত ও কথোপকথনের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়।


৯ মাস আগে শোভন দেশে ফিরে এলেও তাদের প্রেম থেমে থাকেনি। সময়ের ব্যবধান আর ভৌগোলিক দূরত্বে কিছুটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও ভালোবাসা অটুট ছিল। প্রেমিককে খুঁজে খুঁজে অবশেষে গতকাল সোমবার সকালে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান জিমনিয়া। সরাসরি চলে যান শোভনের গ্রামের বাড়িতে। এমন ঘটনা প্রথমে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিস্ময় জাগালেও পরে সবার মুখেই দেখা যায় প্রশংসা আর মুগ্ধতা। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে গতকালই শোভন ও জিমনিয়া চুয়াডাঙ্গা কোর্টে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দেনমোহর ধার্য করা হয় ১০ হাজার টাকা।


এ বিষয়ে শোভন মিয়া বলেন, ‘ভালোবাসা কখনোই জাত-বর্ণ বা দেশের বাধা মানে না। আমি গর্বিত যে জিমনিয়া আমাকে ও আমার পরিবারকে মেনে নিয়েছে। আমাদের প্রেম ছিল সম্পূর্ণ আন্তরিক, আর তাই দূরত্বও আমাদের আলাদা করতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তবে সে যে কোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে।’


শোভনের মা বলেন, ‘আমার ছেলে অনেক বছর প্রবাসে ছিল। সেখানে গিয়েই সে জিমনিয়াকে ভালোবেসেছে, এবং তাকেই সে বিয়ে করেছে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। মেয়েটি খুব ভদ্র ও মিশুক, পরিবারের সবার সঙ্গে সহজে মিশে গেছে।’ শোভনের দাদা বলেন, ‘আমাদের সময়ে এমন ঘটনা কল্পনাও করা যেত না। এখনকার ছেলে-মেয়েরা অনেক সাহসী ও স্বাধীনচেতা। জিমনিয়া ভিন্ন দেশের হলেও তার আচরণ, শালীনতা ও শ্রদ্ধাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, আমার নাতির প্রেম কোনো অংশেই লায়লা-মজনুর চেয়ে কম নয়।’


এদিকে এই ভালোবাসা ও বিবাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন নবদম্পতিকে একনজর দেখতে, অনেকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাতে ছুটে আসছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত