রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জীবননগরের সরকারি বাওড় ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালি উত্তোলনের মহোৎসব

ঝুঁকিতে সড়ক ও কৃষিজমি, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৫-২০২৫ ইং
জীবননগরের সরকারি বাওড় ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালি উত্তোলনের মহোৎসব


চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে সরকারি বাওড় ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালু উত্তোলন চলছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি সড়ক ও ফসলি জমি। প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর মোড়ে একতারপুর বাওড়ের পাশে নির্মিত হচ্ছে একটি পার্ক। প্রকল্পটির জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে এবং কাজও চলমান। পার্ক নির্মাণের কাজে বালু ভরাটের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সরাসরি একতারপুর বাওড় থেকে বালু উত্তোলন করছে। ঘটনাস্থলের পাশে রয়েছে ব্যস্ততম একটি মহাসড়ক ও একটি বিদ্যুতের পোল ফ্যাক্টরি, যেখানে প্রতিদিন ভারী ট্রাক চলাচল করে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বালু উত্তোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


এমন চিত্র দেখা গেছে জীবননগরের রায়পুর ইউনিয়নের পুরাতন চাকলা গ্রামেও। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ‘পুকুর খননের’ নামে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সড়ক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের কৃষিজমি। স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় নজরুল মেম্বার বালু বিক্রি করেছেন। এবারও নাকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।



শুধু একতারপুর কিংবা রায়পুর নয়, মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামেও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে স্থানীয় নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, এটি যেন বালু উত্তোলনের এক ‘মহাউৎসবে’ রূপ নিয়েছে।


রায়পুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পুকুর খনন না করলে মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ডিসি ও ইউএনওর অনুমতি নিয়ে খনন করছি। এখানে কোনো বালু বিক্রি করছি না, শুধু ইউএনও অফিসের কিবরিয়া ১৫ ট্রাক বালু নিয়েছেন।’


উথলী ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বলেন, ‘একতারপুর বাওড় থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে, আমি দেখেছি। তবে বিষয়টি ইউএনও স্যারের তদারকিতে থাকায় আমি সেখানে যাইনি। এটি টেন্ডার হয়েছে কি না, সেটাও জানি না। ধোপাখালীতে একটি পুকুর খননের অনুমতি ইউএনও স্যার দিয়েছেন বলে শুনেছি। কেউ যদি অবৈধভাবে বালু তোলে, তাহলে তা ইউএনও স্যারকে জানাবো।’



হাসাদাহ ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “পুরাতন চাকলা গ্রামে নজরুল মেম্বার পুকুর খননের নামে বালু তুলছেন- এমন সংবাদ পাওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানান, ইউএনও স্যারের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো কাগজ বা তদন্তের নির্দেশনা না থাকায় আমি ইউএনও অফিসের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলি। তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যার জানেন, ওখান থেকে কিছু বালু নিচ্ছেন, আপনার কিছু বলার দরকার নেই।’ এরপর আমি আর কিছু বলিনি।”


এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল-আমীনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘জীবননগরে কোথাও মাটি বা বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদি কেউ এমন কাজ করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত