চুয়াডাঙ্গায় জিহাদ আলী (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ টাকা ফেরত চাওয়ায় দোকান মালিককে উল্টো হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার এ ঘটনায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (চুয়াডাঙ্গা সদর) জিহাদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী দোকান মালিক অভি হোসেন। অভিযুক্তদের মধ্যে জিহাদ চুয়াডাঙ্গা পৌর মাঝেরপাড়ার মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে, জিহাদের মা আল্লাদী (৩৮), একই এলাকার লিপনের স্ত্রী রেশমা (৪০) ও মৃত হাকিমের ছেলে সহিদুল (৬০) রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহরের বড় বাজারে অভি হোসেনের প্রতিষ্ঠান অভি ফুডের কর্মচারী জিহাদ আলী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। এরই মধ্যে গত এপ্রিল মাসে দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ৬৬ হাজার ৫ শ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় জিহাদ। পরে জিহাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অভি হোসেন। অভিযোগের পর বাদী অভি হোসেন ও বিবাদী জিহাদ আলী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতিতে গত ১ মে অর্থ পরিশোধ করার শর্তে আপস করেন। ওই আপসে টাকা পরিশোধ করার শর্ত মেনে নেন জিহাদ আলী ও তার পক্ষে অন্য আসামিরা। তবে আপস করে আসলেও আপসনামার শর্ত না মেনে হয়রানি করছিলো কর্মচারী জিহাদ।
অভিযোগে ভুক্তভোগী অভি আরও উল্লেখ করেছেন, গত মঙ্গলবার জিহাদ ও তার মাসহ পক্ষের লোকজন থানায় করা আপসনামা অস্বীকার করে এবং চুরিকৃত টাকা ফিরিয়ে দেবে না বলে জানায়। একই সঙ্গে তারা অভিকে হুমকি দেয়, যদি তিনি এ বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করেন, তাহলে তাকে চুয়াডাঙ্গায় ব্যবসা করতেই দেবে না। একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা ছাড়া করে দেবে। এছাড়াও বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে জেল হাজতের আটকিয়ে রাখায় ভয়ও দেখায় জিহাদ।
ভুক্তভোগী অভি হোসেন বলেন, ‘টাকা চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল জিহাদ। থানায় অভিযোগের পর অনেক মানুষের উপস্থিতিতে এবং অনুরোধে ছেলেটি লোভে পড়ে ভুল করেছে মনে করে আপস করার জন্য আমি রাজি হই। আপসের শর্ত অনুযায়ী, ২ মে তারিখে ১টি ব্যাংক চেক প্রদান করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা না করে আমাকে হয়রানি করে আসছিলো। এখন তারা আপসনামাই অস্বীকার করছে এবং হুমকি দিচ্ছে, যদি কোথাও অভিযোগ করি তাহলে আমাকে চুয়াডাঙ্গাতে ব্যবসা করতে দেবে না, চুয়াডাঙ্গা ছাড়া করবে। শুধু এই হুমকিতেই তারা থেমে থাকেনি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আমাকে জেলে ভরে রাখবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। তাই নিরাপত্তাহীনতায় এবং সঠিক বিচারের আশায় আদালতে মামলা করতে বধ্য হয়েছি। এখন আদালতই ন্যায় পাইয়ে দেবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক