রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রতিকারের দাবিতে এক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৫-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম তার পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘প্রভাবশালী আব্দুর রহমান করিম পরিবারের সদস্যরা আমাদের পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। প্রতিবাদ করায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।’


তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও একটি মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের ওপর বারবার হামলা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা আমাদের নিপীড়ন করেছে, এখন তারা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিলেই একই কায়দায় নির্যাতন করছে।’


মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৩ সালে আমরা চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টে ১০৭ ধারায় একটি মামলা করি। ওই মামলায় বিবাদীরা মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চায় এবং জরিমানা দেয়। এরপরও হামলা বন্ধ হয়নি। আমাদের ৭ একর ৫৭ শতক জমি, যার মধ্যে ধানী জমি ও লিচু বাগান রয়েছে, তা করিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি জোর করে ভোগ করছেন।’  তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রভাবশালী করিম মিয়া তার লোকজন নিয়ে আমাদের ঘরের পেছনে রাতের আঁধারে অবস্থান নেয়। প্রতিবাদ করলেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুনের হুমকি দেয়। কোর্টের বারান্দায়ও আমাকে উকিলের সামনেই হুমকি দেওয়া হয়েছে।’


মনিরুল আরও জানান, ‘যেদিন আমরা পুলিশের ডাকে সরোজগঞ্জ ফাঁড়িতে গিয়েছিলাম, সেদিন প্রতিপক্ষ আমাদের জমির কাঠালগাছ থেকে জোর করে ফল পেড়ে নেয়। থানায় অভিযোগ করলেও ওসি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দারোগা অভিযোগ আমলে না নিয়ে আমাদের সঙ্গে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন।’


সংবাদ সম্মে§লনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জমির অংশীদার হয়েও কাগজপত্র দেখতে পারি না। করিম মিয়া ও তার লোকজন ওই জমির দলিল ব্যবহার করে ৪ কোটিরও বেশি টাকার সিসি লোন নিয়েছে। অথচ আমরা জানতে চাইলে তারা বলে- ‘কোর্টে যান, কোনো মীমাংসা হবে না।’ তিনি জানান, বলগাছি মৌজা ও বোয়ালিয়া মৌজার একাধিক দাগে নিলামে ক্রয়কৃত জমি  ওয়ারিশসূত্রে তাদের মালিকানাধীন রয়েছে। করিম মিয়ারা সেখানে বেআইনিভাবে দখল বজায় রেখেছেন।



সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কোনো ডিআইজি আত্মীয় নেই, এমপি-মন্ত্রী নেই। কিন্তু আমরা তো এ দেশেরই নাগরিক। তাহলে কি আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশের নিরপেক্ষ সহযোগিতা চাই। চাই, আমাদের প্রাপ্য জমির দখল ফিরে পেতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ।’ সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত